নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: যোগেন্দ্রনাথ মুখার্জি রোড। উত্তর হাওড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার বড়ো অংশ এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলাতেই চলাচল দুর্বিষহ, আর রাত নামলে প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে দু’চাকার আরোহী ও টোটো চালকদের। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় টোটোর চাকা আটকে উলটে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। শুধু এই রাস্তা নয়, লাগাতার বর্ষণে শহরের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখন পথচারী ও চালকদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু করতে চলেছে হাওড়া পুরসভা। পাশাপাশি বর্ষা কাটলেই পুজোর আগে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের সবক’টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা স্থায়ী সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই যোগেন্দ্রনাথ মুখার্জি রোডের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। রাস্তার বিভিন্ন অংশে পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে ইট বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ করে পুরানো মায়া সিনেমা হল থেকে নতুন মন্দির পর্যন্ত অংশে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। নিত্যদিন সেখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। আবার বাঁধাঘাট থেকে খানিকটা এগলে নির্মীয়মাণ একটি বহুতলের সামনে রাস্তার একাংশ গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক সপ্তাহ আগে বিপজ্জনক অংশে রাবিশ ফেলা হলেও সেগুলি ছিল ভাঙা বাড়ির ধ্বংসাবশেষ। বৃষ্টির জলে তা ধুয়ে গিয়ে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। অভিযোগ, চার লরি ইটের খোয়া ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র দুই লরি খোয়া ফেলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপি নেতা ধ্রুব অগ্রহরি বলেন, রাস্তার বেহাল দশার কথা উমেশ রাইকে জানানো হয়েছে। এলাকার মানুষের কাছ থেকে প্রতিদিন অভিযোগ শুনতে হচ্ছে। বর্ষায় বেহাল রাস্তার একই ছবি দেখা গিয়েছে নস্করপাড়া রোড, জি টি রোড, শৈলেন মান্না সরণি, আন্দুল রোড, লিলুয়ার রবীন্দ্র সরণি, বেনারস রোড, মধ্য হাওড়ার নেতাজি সুভাষ রোডের বিস্তীর্ণ অংশেও।
পুরসভা সূত্রের খবর, আপাতত শহরের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জরুরি ভিত্তিতে প্যাচওয়ার্কের কাজ শুরু হচ্ছে। এর জন্য বুধবার দেড় কোটি টাকার টেন্ডার করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানান, বর্ষা মিটলে পুজোর আগেই প্রায় ১৫০টি রাস্তা পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা হবে। একইসঙ্গে মেরামত করা হবে স্ট্রিট লাইটগুলি। সব মিলিয়ে খরচ হবে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। শুধু রাস্তা তৈরি নয়, আগামী পাঁচ বছর তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও থাকবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার উপর। পুরসভার দাবি, কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাস্তার পাশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের নাম ও ফোন নম্বর সহ বোর্ড টাঙানো হবে, যাতে প্রয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ
করতে পারেন।