নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মাধ্যমিকের ফর্ম ফিলাপের সময়ে নিজের নামটাই সই করতে পারছে না অধিকাংশ পড়ুয়া। মুর্শিদাবাদ জেলার পড়ুয়াদের প্রাথমিকস্তর থেকেই অক্ষরজ্ঞান হচ্ছে না। ইংরেজি তো দূরের কথা, বাংলা হরফ দেখে রিডিংও পড়তে পারে না অধিকাংশই। সংখ্যা চেনে না অনেকেই। তাই রিডিং পড়ার দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মুর্শিদাবাদ জেলায় ৩১৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রীর পড়ার দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে প্রতিটি ক্লাস থেকে নির্দিষ্ট পড়ুয়াদের বাংলা রিডিং পড়ানো হবে।
সমগ্র শিক্ষা মিশনের ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার এশা ঘোষ বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিশুদের দেখে রিডিং পড়ার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে না। আমরা প্রথমে জেলার প্রতিটি বিদ্যালয় আলাদা করে অ্যাসেসমেন্ট করেছি। তারপর পড়ুয়াদের বাছাই করে তাদের অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। সেই রেমিডিয়াল ক্লাসের পর আমাদের পরিকল্পনা আছে, আগামী মাসের দিকে গোটা জেলাজুড়ে একটি রিডিং কম্পিটিশন করার। সেখানে প্রতিটা বাচ্চাটা যাতে অংশ নেয়, সে চেষ্টাও করা হবে। এরকম প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থায় অনেক পড়ুয়া রিডিং পড়া চর্চা করবে। তাতে সার্বিকভাবে পড়ুয়াদের মানোন্নয়ন হবে বলে আমরা আশা করছি।
জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলার ৪১টি সার্কেলের ৩১২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের অনেকেরই অক্ষরজ্ঞান হয়নি। অনেক সময় দেখা যায়, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের স্কুলে গিয়ে পড়ুয়ারা খাপ খাওয়াতে পারছে না। যেহেতু পাশ-ফেল প্রথা উঠে গিয়েছে, তাই পড়ুয়াদের মানোন্নয়ন ঘটছে কম। সেজন্য প্রাথমিকে পড়ুয়াদের রিডিং এবিলিটি বাড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসন কোমর বেঁধে নেমেছে। ক্লাসরুম থেকে রিডিং পড়ার দক্ষতা বাড়ানোর জন্য দশটি বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। তারপর রিডিং ফেস্টিভ্যাল করার জন্য চারটি পর্বে ভাগ করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, আগামী এক মাসে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের প্রথমে ওয়ার্ম আপ অ্যাক্টিভিটি করানো হবে। তারপর প্রি রিডিং অ্যাক্টিভিটিস এবং মডেল রিডিং পড়ানো হবে পড়ুয়াদের। এরপর দলবদ্ধভাবে পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়বে। তারপর এক একজন পড়ুয়া পৃথক পৃথকভাবে বই দেখে রিডিং পড়বে। এরপর যে বিষয়টা তারা পড়ছে, সেটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে গল্প করে আলোচনা করবে। এরপর সেই রিডিং বিষয়ক একটি সৃজনশীল কাজ করবে সকলে। তারা এরপর রোল প্লে অ্যাক্টিভিটি এবং তারপর ছন্দবদ্ধ পাঠে মন দেবে সকলে। জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা রয়েছে, এরপরে প্রতিটি স্কুলের পড়ুয়াদের বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে একক এবং সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ বলেন, প্রাথমিকের পড়ুয়াদের মানোন্নয়ন ঘটাতে পারলে আগামী দিনে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে তাদের সুবিধা হবে। সেজন্য প্রথমে প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত জেলার সমস্ত প্রাথমিক স্কুলে এই রেমিডিয়াল ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। রিডিং পড়তে না পারা শিশুদের বাছাই করে তাদের দক্ষতা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে।
ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল চেয়ারম্যান আশিস মার্জিত বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের যাতে শিক্ষার মান উন্নতি হয় সেজন্য একাধিক প্রকল্প এবং পরিকল্পনা নিচ্ছেন। আজকে বিদ্যালয়ে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করছে সমস্ত পড়ুয়ারা। আমাদের জেলায় বহু এমন পড়ুয়া আছে, যাদের পরিবারের তারাই প্রথম স্কুলে পা দিচ্ছে। তাই তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই স্পেশ্যাল রিডিং এবিলিটির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে তাদের স্বাভাবিকভাবেই অক্ষর জ্ঞান বাড়বে। -নিজস্ব চিত্র