সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিস্তীর্ণ এলাকার রাস্তা বর্ষায় বেহাল হয়ে পড়েছে। অলিগলির সিংহভাগ রাস্তা কার্যত ডোবার চেহারা নিয়েছে। এতে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সবথেকে খারাপ অবস্থা ফুলবাড়ি-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। ডাবগ্রাম-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অনেক রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে আছে। ভুক্তভোগী বাসিন্দারা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের সময় ছাড়া এমএলএ, এমপি’র দেখা পাওয়া যায় না।
ফুলবাড়ি ক্যানেল রোড ধরে এগিয়ে বাঁ দিকে ঢুকলেই চতুরাগছের রাস্তায় অনেকটা এলাকাজুড়ে গর্ত হয়ে রয়েছে। ভাঙা রাস্তায় রাতে প্রায়ই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটছে। জমা জল ভেঙেই সকলকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সিপাহীপাড়া, পাঁচকলগুড়ি, ভালোবাসা মোড় থেকে শুরু করে সাউথ কলোনি সর্বত্র একই অবস্থা। ডাবগ্রাম -২ গ্রাম পঞ্চায়েতের হাতিয়াডাঙা, মধ্য শান্তিনগর, ঠাকুরনগর, বাড়িভাসা এলাকার রাস্তাও বহুদিন ধরে বেহাল অবস্থায়। কমবেশি প্রতিটি জায়গাতেই রাস্তার খানাখন্দে জমে আছে জল।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকার চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে তিনটি তৃণমূল এবং একটি বিজেপির দখলে। এলাকার উন্নয়নে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজকর্ম নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় ও সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় এই বিধানসভা কেন্দ্রে কোনও কাজ করছেন না।
যদিও শিখা চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদকে তৃণমূল ঢাল করতে চাইছে। তিনি বলেন, আমাদের ক্ষমতা সীমিত। এসব রাস্তা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং এসজেডিএ’র এলাকার মধ্যে রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা মেরামত করছে না বলেই আজকে মানুষের এই দুর্ভোগ। ডাবগ্রাম-২ পঞ্চায়েত বিজেপির পরিচালনায় রয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাকি তিনটি পঞ্চায়েতে তৃণমূল রয়েছে। সেখানে কেন কাজ হচ্ছে না? বিজেপির বিধায়ক ও সাংসদকে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা হলে সেটা তৃণমূলের পক্ষে বুমেরাং হবে।
এদিকে, শিলিগুড়ি পুরসভার ‘টক টু মেয়র’ ফোন-ইন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিধানসভার পঞ্চায়েত এলাকার নাগরিকরা ফোন করে উন্নয়নের জন্য মেয়র গৌতম দেবের সাহায্য চেয়েছেন। গত শনিবার এরকমই একটি ফোন পান তিনি। মধ্য শান্তিনগরের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সিংহ এলাকার সমস্যার সমাধানে মেয়রকে উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানান। গৌতম দেব বলেন, আমি এখন বিধায়ক বা মন্ত্রী নই, তবু সেখানকার মানুষ তাদের সমস্যায় আমার উপরই আস্থা রাখছেন। অথচ সেখানে একের পর এক নির্বাচনে বিজেপি জিতেছে। বিধায়ক ও সাংসদ কাজ করেছেন না। সেখানকার মানুষ এখন বুঝতে পারছেন বিজেপিকে জিতিয়ে তাঁরা ভুল করেছেন।
নিজস্ব চিত্র।