Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

গত কেন্দ্রীয় বাজেটের অধিকাংশ প্রকল্পের কাজই চলছে ঢিমেতালে, ঘোষণাই সার মোদি সরকারের!

ঘোষণাই সার। কাজের বেলায় শম্বুক গতি। অথচ প্রচারে মোদি সরকারের কোনো খামতি নেই। বাজেটে ঘোষণা হলেও কতটা কার্যকর হয়েছে?

গত কেন্দ্রীয় বাজেটের অধিকাংশ  প্রকল্পের কাজই চলছে ঢিমেতালে, ঘোষণাই সার মোদি সরকারের!
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:  ঘোষণাই সার। কাজের বেলায় শম্বুক গতি। অথচ প্রচারে মোদি সরকারের কোনো খামতি নেই। বাজেটে ঘোষণা হলেও কতটা কার্যকর হয়েছে? সরকারি রিপোর্টেই স্পষ্ট, সিংহভাগ প্রকল্পেরই কাজই শুরু হয়নি। বড়জোর মন্ত্রকে হয়েছে মিটিং। নয়তো গেজেট বিজ্ঞপ্তি। তা সে বিহারে ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাজেটে মাখানা বোর্ড গঠনের উল্লেখই হোক বা ক্ষুদ্র শিল্পকে চাঙ্গা করা। গত বাজেটে (২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে) ঘোষণার বাস্তবায়ন রিপোর্টেই স্পষ্ট, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অত্যন্ত শ্লথ গতি। অথচ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিত্যদিন নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করে ‘কর্তব্য’র করতাল বাজাচ্ছেন!

Advertisement

গত বাজেটের ঘোষণার বাস্তবায়নের নথিতে দেখা যাচ্ছে, এক একটি ঘোষণার হাল খুবই খারাপ। যেমন, এমএসএমই বা ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প। দেশে এক কোটির বেশি এ ধরনের শিল্পোদ্যোগে প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ যুক্ত। এই ক্ষেত্রকে দ্বিগুণ চাঙ্গা করে কর্মসংস্থানের ঘোষণা হয়েছিল। অথচ তার ফল কী? সরকারি রিপোর্টই বলছে, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ গেজেট বিজ্ঞপ্তি হয়েছে মাত্র। 
আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে ‘স্টার্ট আপে’র ক্ষেত্রে ভালো ব্যবসা দেওয়া ক্ষুদ্র শিল্পের ঋণ পাওয়ার সুযোগ ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত করার ঘোষণা হয়েছিল। বাস্তবে ডিপার্টমেন্ট ফর প্রোমোশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেড (ডিপিআইআইটি) গত বছরের ৮ মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে মাত্র। আন্তঃমন্ত্রকের মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে প্রস্তাব। ‘স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে প্রথমবারের উদ্যোগী পাঁচ লক্ষ মহিলা, তফসিলি জাতি/উপজাতির জন্য আগামী পাঁচ বছরে দেওয়া হবে দু’ কোটি টাকা ঋণের ঘোষণা হয়েছিল। কিন্তু ঘোষণার এক বছর পার। কাজ কী হয়েছে? উত্তর হল, নতুন এই প্রকল্পে এক্সপেনডিচার ফিনান্স কমিটির প্রস্তাব বিবেচনাধীন। বিহারের পুষ্টিকর খাদ্য মাখানার উন্নয়নে বোর্ড গঠন সহ প্রশিক্ষণের ঘোষণায় বাস্তব কী? ছ’টি জেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে মাত্র। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রক আর নাফেডের মধ্যে ‘মউ’ স্বাক্ষর হয়েছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) পরিকাঠামো উন্নয়নে ৯৯২ টির মধ্যে মাত্র কাজ শুরু হয়েছে ৩৯৯ টির। 
‘ভারতনেট’ প্রকল্পে গ্রামের সব সরকারি স্কুল এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ব্রডব্যান্ড সংযোগের ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কিন্তু তিনিই সংসদে ৭৬ পাতার নথি পেশ করে জানিয়েছেন, ১ লক্ষ ১ হাজার ৮৫০ গ্রামীণ সেকেন্ডারি স্কুলের মধ্যে মাত্র ৩২ হাজার ৬৬৩ টিতে বিএসএনএল ব্রডব্যান্ড সংযোগ হয়েছে। ২৪ হাজার ১৪১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ২ হাজার ৬০২টিতে বিএসএনএলের ব্রডব্যান্ড সংযোগ হয়েছে। ভারতীয় ভাষায় লেখা পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল আকার দিতে ৫ হাজার ৫৫৪ কোটি খরচে ‘ভারতীয় ভাষা পুস্তক স্কিম’ ঘোষণা হয়েছিল। কিন্তু গত বছর ১১ ডিসেম্বর এক্সপেনডিচার ফিনান্স কমিটির স্রেফ একটি মিটিং হয়েছে। ফলে মোদি সরকারের বাজেট ঘোষণার অধিকাংশই কি জুমলা? উঠছে প্রশ্ন।

সম্পর্কিত সংবাদ