নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারে রাজ আমলের বহু ঐতিহ্যবাহী দিঘি কচুরিপানা, জলজ উদ্ভিদে ঢেকে রয়েছে। শীতকালে জেলার কয়েকটি দিঘিতে পরিযায়ী পাখির দল আসে। কোনও কোনও দিঘিতে এরা এক-দুই সপ্তাহ থেকে অন্যত্র উড়ে যায়। পরিযায়ী পাখিদের কয়েকদিনের অবস্থানই স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁরা এদের অতিথি হিসেবে দেখেন।
শহরের কিছু দিঘি কচুরিপানা, জলজ উদ্ভিদে জল ঢেকে গিয়েছে। এতে পরিযায়ী পাখিদের জলে সাঁতার কাটতে, খাবার খুঁজতে সমস্যা হচ্ছে। দিঘি সংস্কারের অভাবে এভাবে পড়ে থাকায় তার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পরিবেশের ওপরেও। কোচবিহার রবীন্দ্রভবন সংলগ্ন মীন বীজ খামারের দিঘিতে বেশকিছু পরিযায়ী পাখি এসেছে। লেসার হুইসলিং ডাক বা সরালের উপস্থিততে দিঘির প্রতি অনেকেরই আকর্ষণ বেড়েছে। কিন্তু কচুরিপানায় দিঘির জল ঢেকে গিয়েছে। শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী লম্বা দিঘিও অপরিষ্কার হয়ে আছে। যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ জমছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাইয়া দিঘিও কচুরিপানায় ঢেকে গিয়েছে। রাজমাতা দিঘি ছেয়েছে পদ্মপাতায়।
কোচবিহারের বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমী অরূপ গুহ বলেন, আগে সাগরদিঘিতে পরিযায়ী পাখি আসত। কিন্তু বর্তমানে সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। রাজবাড়ি ঝিলে খাবারের সন্ধানে পরিযায়ী পাখির দেখা মিলত। সেখানে এখান আর সেভাবে পরিযায়ী পাখি যাচ্ছে না। এবার ম্যাগাজিন রোডের একটি দিঘিতে প্রথমবার বেশকিছু পরিযায়ী পাখি এসেছে। কিন্তু ওই দিঘিতে প্রচুর কচুরিপানা জমে রয়েছে। আশপাশেও আবর্জনা জমে আছে। পরিযায়ী পাখির দল দিঘির জলে খাবারের খোঁজ করে। কচুরিপানা থাকায় ওদের চলাচলেও অসুবিধা হচ্ছে। দেখা যাক ক’দিন থাকে। কোচবিহারের দিঘিগুলি অবিলম্বে পরিষ্কার করা উচিত। শহরের জলাশয়গুলি হৃদপিণ্ডের মতো। কিন্তু সেগুলির অবস্থা খারাপ। এগুলি পরিষ্কার করলে তাহলেই আগামী দিনে পরিযায়ী পাখি আসার সংখ্যা বাড়তে পারে।
কোচবিহার শহরের মধ্যে বেশ কয়েকটি বড়মাপের দিঘি রয়েছে। মহারাজাদের আমলে এসব দিঘি খোঁড়া হয়েছিল। পরবর্তী দীর্ঘসময় ধরে দিঘির জল স্বচ্ছ ছিল। আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পাল্লা দিয়ে দূষণ, শব্দের বাহুল্য বাড়তে থাকে। অনেক দিঘির পাশে লাইট লাগানো হয়েছে। সেই আলোতেও পাখিদের সমস্যা হয় বলে অনেকে মনে করেন।
একসময় সাগরদিঘিতে পরিযায়ী পাখি আসত। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে আর আসছে না। রাজবাড়ি ঝিলেও আর সেভাবে পরিযায়ী পাখির ভিড় দেখা যায় না। আগামী দিনে দিঘিগুলিতে উপযুক্ত পরিবেশ না পেলে শীতের এই অতিথি পাখিরা হয়তো চিরকালের মতো মুখ ফিরিয়ে গন্তব্য খুঁজতে অন্য কোথাও চলে যাবে। • নিজস্ব চিত্র।