ঢাকা: ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ ঘটনাই অপরাধমূলক প্রকৃতির। এর সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানির সম্পর্ক নেই। সোমবার বিবৃতি পেশ করে এমনই সাফাই দিল সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
ঢাকা: ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ ঘটনাই অপরাধমূলক প্রকৃতির। এর সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানির সম্পর্ক নেই। সোমবার বিবৃতি পেশ করে এমনই সাফাই দিল সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয় বাংলাদেশ। ছায়ানট সহ সে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাণ্ডব চালায় মৌলবাদীরা। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চরমে পৌছয়। নির্মমভাবে খুন করা হয় কয়েকজন হিন্দুকে। গত ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। কয়েকদিনের মধ্যে এই নিয়ে বিবৃতি দিল বাংলাদেশ প্রশাসন। সাফাই দিয়ে বলা হল, সরকারি নথির এক বছরের পর্যালোচনার ভিত্তিতে দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে অত্যাচারের মোট ৬৪৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিটি ঘটনাই উদ্বেগের। তবে এর অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক নয়। অপরাধমূলক প্রকৃতির।’ বিবৃতি অনুযায়ী, ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টিতে সাম্প্রদায়িক উপাদান চিহ্নিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ৩৮টি মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা, ৮টি অগ্নিসংযোগ, ১টি চুরির ঘটনা, ১টি হত্যাকাণ্ড। ২৩টি অন্যান্য ঘটনাও রয়েছে। যেমন মূর্তি ভাঙার হুমকি বা সমাজমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট। প্রশাসনের দাবি, ৭১টি ঘটনার মধ্যে ৫০টিতে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। প্রতিক্ষেত্রেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২১টি ক্ষেত্রে তদন্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনার সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক নেই। এগুলি নেহাতই অপরাধমূলক বা সামাজিক বিরোধের সঙ্গে যুক্ত। ওই বিবৃতিতে বিস্তারিতভাবে সমস্ত অপরাধের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, প্রতিবেশীর সঙ্গে বিবাদ জনিত ঘটনার সংখ্যা ৫১টি, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ২৩টি, চুরির ঘটনা ১০৬টি, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে হিংসা ২৬টি ক্ষেত্রে। এছাড়া ৫৮টি ধর্ষণ, ১৭২টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে ৩৯০টি ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ৪৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথ, অন্তর্বর্তী সরকারের এই হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, ‘সরকার যদি মনে করে এগুলি সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে কীভাবে যে কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারে?’