Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টিতে বেহাল আসানসোলের অধিকাংশ রাস্তা, দুর্ভোগ

জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে টানা বৃষ্টিপাতের জেরে শিল্পাঞ্চলের সড়ক মানুষকে নরক যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত, তাতে জমে থাকছে জল।

বৃষ্টিতে বেহাল আসানসোলের অধিকাংশ রাস্তা, দুর্ভোগ
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে টানা বৃষ্টিপাতের জেরে শিল্পাঞ্চলের সড়ক মানুষকে নরক যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত, তাতে জমে থাকছে জল। বৃষ্টি হলে রাস্তা নদীর চেহারা নিচ্ছে। রাস্তার পাশে থাকা নিকাশি নালা দখল করে তৈরি হয়েছে দোকান। সেসব দেখেও দেখে না প্রশাসন। তার জেরেই জল বের হওয়ার পভ বন্ধ। শুধু বৃষ্টির জলই নয়, ড্রেনের জলও রাস্তা দিয়ে বইছে। গ্রামীণ রাস্তার পাশাপাশি রাজ্য সড়কগুলিরও বেহাল। কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাজ্য সরকার রাস্তা সংস্কার করছে, তারপরও কেন এমন অবস্থা প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

Advertisement

আসানসোল-নিয়ামতপুর সড়ক শিল্পাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। নিয়ামতপুর মোড় থেকে রূপনারায়ণপুর নামো কেশিয়া পর্যন্ত রাস্তাটি রাজ্য সরকারের পূর্তদপ্তর দেখভাল করে। কয়েক বছর আগেই প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাটির সংস্কার করা হয়। সেই রাস্তা এখন চলাচলের অযোগ্য। চৌরঙ্গি মোড় থেকে সালানপুর মোড়, জেমারি মোড় থেকে দেন্দুয়া মোড়, সর্বত্র যাতায়াত করতে গিয়ে মানুষের প্রাণবায়ু বেরিয়ে আসছে। রাস্তা ভেঙে চৌচির হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টির সময়ে সেই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানোর শামিল। কেন এমন দশা? স্থানীয়দের দাবি, প্রথমত রাস্তা সংস্কারে ঠিকমতো হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত রাস্তার দু’ পাশে উপযুক্ত নিকাশি নালা না থাকায় জল রাস্তার উপরই দাঁড়িয়ে থাকছে। বিশেষ করে রাস্তার দু’ পাশে প্রভাবশালীরা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের পছন্দের লোককে দোকান করতে দিয়েছে। তাতেই বরবাদ নিকাশি। এই রাস্তার পাশেই আবার রূপনারায়ণপুর রেলগেট থেকে ঝাড়খণ্ডের মিহিজাম পর্যন্ত রাস্তাটি জেলা পরিষদ দেখভাল করে। সেখানে তাঁদের একটি টোল গেটও রয়েছে। সেই রাস্তাতেও বিশাল গর্ত। সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। 
সিপিএম নেতা আবির ঘোষ বলেন, প্রতিদিন সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দ থেকে কাটমানি খেয়ে আর রাস্তা দখল করে দোকান বসানোর জেরেই আজ এই অবস্থা। শুধু এই রাস্তাই নয়, নিয়ামতপুর-পুরুলিয়া রাজ্য সড়কের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ। বছরভর রাজ্য সরকারের টাকায় পূর্তদপ্তর এই রাস্তা সংস্কারের করে। সংস্কার বলতে, জোড়াতাপ্পি দেওয়া। গর্তগুলিতে পিচ দিয়ে দেওয়া। ফের বৃষ্টি হলেই সেই পিচ উঠে গিয়ে গর্ত বেরিয়ে আসে। এতে ঠিকা সংস্থার লাভ হলেও দুর্ভোগে পড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। শুধু কি রাজ্য সড়ক, শহরের রাস্তারও একই অবস্থা। বুধবার আধ ঘণ্টা মুষলধারে বৃষ্টি হতেই আসানসোলে শহরের প্রায় সব রাস্তা জলের তলায় চলে গিয়েছিল। কিছু দোকানেও বৃষ্টির জল ঢুকে পড়ে। তারপরও নিকাশি নালা সংস্কার নিয়ে উদাসীন প্রশাসন। এমনকী পুরসভা উচ্ছেদ অভিযানে নামলেও পিছন থেকে টেনে ধরছে প্রভাবশালীরা। 
জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি বলেন, আমাদের অধীনে থাকা রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য জেলা ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠানো হবে। বাকি সড়ক সমস্যাগুলি বৈঠক আলোচনা করব। 
 নিয়ামতপুর বোরো অফিস যাওয়ার রাস্তা বেহাল।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ