নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাংলার বাড়ি পেল মুর্শিদাবাদের দু’লক্ষেরও বেশি পরিবার। গত বছরের মার্চ মাস থেকে বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্প চালু হলে সাধারণ মানুষ আবেদন শুরু করেন। মোট ২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৫৯৬টি তালিকাভুক্ত পরিবারের মধ্যে যোগ্য উপভোক্তা হিসেবে ২ লক্ষ ৭ হাজার ৫২টি তালিকাভুক্ত পরিবারকে বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপর ধাপে ধাপে রাজ্য সরকার টাকা দিতে শুরু করে। রাজ্যের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার পর মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন সরাসরি সেই টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ে ৭৭ হাজার ৫৩৮টি পরিবারকে বাড়ির টাকা দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পেয়েছে। প্রথম ধাপে মোট এই প্রকল্পে রাজ্য সরকার ৯৩০ কোটির বেশি টাকা অনুদান দিয়েছে উপভোক্তাদের। এরপর অক্টোবর থেকে ফের শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের সার্ভের কাজ। বাকি যে সমস্ত উপভোক্তা প্রথম পর্যায়ে বাড়ি তৈরির অনুদান পাননি, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুনরায় রি-সার্ভে করানো হয়। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত মোট ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৩৭৪জন যোগ্য উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়। প্রতি উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির অনুদান হিসেবে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এখনও অবধি রাজ্য সরকার ৬৬০ কোটি টাকা খরচ করেছে। জেলা ও ব্লক স্তরে প্রথম কিস্তির টাকা কয়েক দিনের মধ্যেই সমস্ত উপভোক্তা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন। পরবর্তীতে, উপভোক্তা নিয়ম অনুযায়ী বাড়ির লিন্টেল অবধি নির্মাণ কাজ শেষ করলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা হিসেবে আরও ৬০ হাজার পাবেন।
অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) শামসুর রহমান বলেন, ২ লক্ষ ৭ হাজার ৫২টি পরিবার বাড়ি পাওয়ার যোগ্য। আমরা প্রথম পর্বে ৭৭ হাজার ৫২৮ উপভোক্তাকে বাংলার বাড়ির টাকা দিয়েছি। আবার দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৩৭৪জনকে বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্বের টাকা ঢুকতে শুরু করেছে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে।
প্রসঙ্গত, আবাস যোজনার টাকা কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ করে রেখেছে গত কয়েক বছর থেকে। বাংলাকে বঞ্চনা করতে কেন্দ্রীয় সরকার উঠেপড়ে নেমেছে বলে বারবার অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু এই প্রকল্পে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা পাওনা আছে রাজ্যের। রাজ্যের গরিব মানুষের কথা বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই রাজ্যের তহবিল থেকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা দিচ্ছেন। এর ফলে লক্ষ লক্ষ গৃহহীন পরিবার তাঁদের মাথার উপর ছাদ পাচ্ছে। বাংলার বাড়ি পাওয়ার নিরিখে মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় প্রাপকের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর বাড়ির কাজ দ্রুত শেষ করতে হলে নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এই প্রকল্প রূপায়ণের জন্য নবান্নের তরফে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফান্ড খাতে প্রকল্প ব্যয়ের ০.১৬ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কাজের অগ্রগতি দেখতে আধিকারিকদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার খরচ ওই তহবিল থেকেই দেওয়া হচ্ছে। যাতে প্রশাসনিক আধিকারিকরা কাজের গতি দেখতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন।