Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’শোর বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত পাকা ছাদ মেলেনি

শৈশবে শিশুদের অ’ আ, ক, খ শেখার কথা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। অথচ সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেই পঠন পাঠন এখন শিকেয় উঠেছে

দু’শোর বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত পাকা ছাদ মেলেনি
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: শৈশবে শিশুদের অ’ আ, ক, খ শেখার কথা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। অথচ সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেই পঠন পাঠন এখন শিকেয় উঠেছে। কাটোয়া -১ ব্লকে দু’ শ এর বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই। কারও বাড়ির উঠানে বা পাড়ার আটচালাতেই কোনওরকমে রান্নার কাজ হচ্ছে৷ সেখানে শিশুদের ন্যূনতম শিক্ষালাভ শিকেয় উঠেছে। কবে গড়ে উঠবে শিশুদের জন্য পাকা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র উঠবে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরাই। 

Advertisement

দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে,  কাটোয়া -১ ব্লকে ২৮৮ টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে শিশু সহ প্রসূতি মায়েদের জন্য পুষ্টিকর রান্না হয়। আর শিশুদের পড়াশোনা শেখানো হয়। কিন্তু মাত্র ৬৭ টি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন রয়েছে৷ আর বাকি ২২১ টি কেন্দ্রের কোনও নিজস্ব ভবন নেই। কারও বাড়ির উঠানে, কারও গোয়ালঘরে চলছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। কাটোয়া -১ সিডিপিও দিব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া-১ ব্লকের আলমপুর পঞ্চায়েতের বরমপুর গ্রামের ৫১ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলছে এক কর্মীর বাড়ির চালাঘরে। ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দীর্ঘ তিন বছর ধরে পঠন পাঠন বন্ধ রয়েছে৷ শুধু খাওয়াদাওয়া হয়। অথচ ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ৩১ জন শিশু ও ১০ জন প্রসূতি মায়ের রান্না হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই। ওই কেন্দ্রটি এক সময় পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছিল। কিন্তু ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি বেহাল হয়ে পড়েছে। যেকোনও সময়ে ভেঙে পড়তে পারে। তাই ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের নিয়ে আর ক্লাস করানো হয় না। কারণ অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাতে রাজি নন। অন্যদিকে আলমপুর পঞ্চায়েতের গাঁফুলিয়া গ্রামের ৪০ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নতুন ভবন ২০১৮ সালে তৈরি করা হয়েছে। অথচ নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ব্যবহার করা হয় না। তার বদলে পাশের একটি মন্দিরের নাটমন্দিরে পঠনপাঠন হয়। আর কিছুটা দূরে একজনের বাড়িতে ফাঁকা উঠানে রান্না করা হয়। শুধু কাটোয়াতেও নয়, কেতুগ্রাম ২ ব্লকে মোট ১৭৩টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে ৯৮টি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন রয়েছে। আর বাকি ৭৫ টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব কোনও ভবন নেই। এরমধ্যে বেশিরভাগই খোলা আকাশের নীচে চলছে। কেতুগ্রামে বাঁশ বাগানের মধ্যে খোলা জায়গাতেই রান্না হচ্ছে। তার পাশে ছাগল, মুরগি চড়ে বেড়াচ্ছে। এমন ছবি দেখে অনেকের মনে হতেই পারে পিকনিক চলছে। তবে ১৪  বছর ধরে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাতে কেতুগ্রামের উদ্ধারণপুরে বাঁশ বাগানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলছে। কাটোয়া শহরেই নাকি বহু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই। কারণ জায়গার অভাবেই কেন্দ্র গড়তে পারছে না দপ্তর। যদিও কাটোয়া-১ ব্লকের সরগ্রাম অঞ্চলে আবার সব থেকে বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন রয়েছে। অভিভাবকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে শিশুদের পুষ্টির জন্য রান্না করা হয়। সেই জায়গাই যদি সুরক্ষিত না থাকে তাহলে কিভাবে পঠন পাঠন চলবে? যদি বাড়িতেই করাতে হয়, তাহলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি কি হবে? অবিলম্বে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গুলির মাথায় পাকা ছাদ গড়ে উঠুক সেটাই আমরা চাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ