নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: একমাসে দার্জিলিং জেলায় সচিত্র ভোটার তালিকা থেকে লক্ষাধিক ভোটারের নাম বাদের সম্ভাবনা। যারমধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যাই ৪৬ হাজার। মঙ্গলবার ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক নিরঞ্জন কুমারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে পেশ করা হয়েছে এমনই তথ্য। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জেলায় এখনও ডিজিটাইজেশন হয়নি সাড়ে ৪৩ হাজারের বেশি ইনিউমারেশন ফর্ম। জেলার সমতল ভাগেই এমন ফর্মের সংখ্যা বেশি, ২৮ হাজার ৩৪৯টি।
এদিকে, রাজ্যের পরিসংখ্যান নিয়ে এসআইআরে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে পদ্ম শিবির। তারা বৈঠকে ‘গলাবাজি’ করেও হালে পানি পায়নি। পাল্টা তাদের আক্রমণ করেছে জোড়াফুল শিবির। তবে বৈঠকে এসআইআর নিয়ে তৃণমূল ও সিপিএমের তোলা প্রশ্ন প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বলে খবর। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে এসআইআর আবহে জেলার রাজনীতি সরগরম।
দার্জিলিং জেলার একাংশ পাহাড়। আরএক অংশ সমতল। এসআইআরের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করতে সোমবার জেলায় এসেছেন ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক। তিনি এদিন দার্জিলিং পাহাড়ে ছিলেন। সেখান থেকেই ভার্চুয়ালি সর্বদলীয় বৈঠক করেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বৈঠকে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্র সহ অন্য আধিকারিকরা ছিলেন। প্রশাসন বৈঠকে এসআইআর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পেশ করেছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, পাহাড়ে দু’টি বিধানসভা কেন্দ্র দার্জিলিং ও কার্শিয়াং। আর সমতলে তিনটি কেন্দ্র শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া। এই পাঁচটি কেন্দ্রের ভোটার ১২ লক্ষ ৯২ হাজার। গত ৪ নভেম্বর এসআইআরের কাজ শুরু হয়েছে। সেখান থেকে এখনও পর্যন্ত জেলার তালিকা থেকে ১ লক্ষ ৩ হাজার ১৫৮ জন ভোটারের নাম বাদের সম্ভাবনা। এরমধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ৪৬ হাজার। এরবাইরে কিছু ভোটারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কিছু ভোটার অন্যত্র নাম স্থানান্তরিত করেছেন।
তবে জেলায় এখন পর্যন্ত ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন হয়েছে ১১ লক্ষ ৪৬ হাজার। বাকি আছে প্রায় ৪৩ হাজার ৬০০টি ফর্ম। এমন ফর্মের সংখ্যা সমতলের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে বেশি। শিলিগুড়িতে ১৬ হাজার ৯২টি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে ৮৭১৫টি ও ফাঁসিদেওয়ায় ৩৫৪২টি ফর্ম পেন্ডিং। জানা গিয়েছে,এদিনের সর্বদলীয় বৈঠকে এসআইআর নিয়ে সরব হয় ডান ও বামপন্থীরা। বিজেপি নেতা সৌরভ সরকার বলেন, রাজ্যে ২২০৮টি বুথে মৃত ভোটার নেই বলে কমিশন জানিয়েছে। যারমধ্যে দার্জিলিং জেলার দু’টি পোলিং স্টেশন আছে। কমিশনের এই তথ্য মানা যায় না। তাঁর অভিযোগ, ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলকে বাঁচাতে এসআইআর নিয়ে কারচুপি করছে রাজ্য সরকার।
পাল্টা তৃণমূল নেতা সুপ্রকাশ রায় বলেন, ভোটার তালিকা ও এসআইআর নিয়ে কোনও জ্ঞান নেই পদ্ম শিবিরের ওই নেতাদের। বাস্তব বিষয় সম্পর্কেও তাঁরা অবহিত নয়। তবে ২০০২ ও ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা কিছু ভোটারের ফর্ম বিএলও অ্যাপে আপলোড হচ্ছে না। বিষয়টি কমিশন দেখার আশ্বাস দিয়েছে।
সিপিএম নেতা শরদিন্দু চক্রবর্তী বলেন, চা বাগান ও পাহাড়ের সিঙ্কোনা বাগানে বসবাসকারীদের একাংশের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। তাঁদের বিষয়টি এবার গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। • নিজস্ব চিত্র।