সংবাদদাতা, তেহট্ট: ইজরায়েল ও ইরান দু’টি শক্তিশালী দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে দিন কাটছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী তেহট্ট এলাকার শতাধিক পরিবারের। অতিরিক্ত রোজগারের আশায় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খরচ করে দিল্লি অফিস কিংবা স্থানীয় এজেন্টের হাত ধরে বিভিন্ন কাজের চুক্তিতে পাড়ি দিয়েছিল ইজরায়েল। সেখানে দিব্যি চলছিল, হঠাৎ কয়েকদিন আগে ইজরায়েল ও ইরান দুই শক্তিশালী দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে মিসাইল হামলা। টেলিভিশনের দৌলতে পরিবারের সদস্যরা সেই সমস্ত যুদ্ধের ঘটনাবলী যতই দেখছেন, ততই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন পরিবারের লোকজন। ভিনদেশে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা চাইছেন, খুব শীঘ্রই এই প্রাণঘাতী যুদ্ধ বন্ধ হোক।
তেহট্ট থানার বেতাই লালবাজারের কৃষ্ণ সরকার জানান, তাঁর দাদা সুখেন্দু সরকার আজ থেকে প্রায় এক বছর তিন মাস আগে দিল্লির একটি অফিসের হাত ধরে ইজরায়েলে পাড়ি দেন। সেখানে ওভার টাইম সহ ১০ ঘণ্টা কাজ করে মাসের শেষে পাচ্ছেন প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। তার দাদা ফোন করে জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালীন অনেকের কর্মস্থলের আশপাশে হয়েছে মিসাইল হামলা। তবে ইজরায়েল সরকারও সতর্ক, বম্বিং কিংবা মিসাইল হামলার ঠিক দশ মিনিট আগে প্রত্যেকের মোবাইলে অ্যালার্ম বেজে উঠছে। তখনই যে যেখানে যে অবস্থাতে থাকুন না কেন, প্রত্যেকেই নিকটস্থ অত্যাধুনিক বাঙ্কারের প্রবেশ করছেন। কয়েকদিন ধরে তাঁরা বাঙ্কারের মধ্যেই আছেন। খুব প্রয়োজনে বাইরে আসার অনুমতি মিলছে। তবে যুদ্ধের ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা একদমই নিষেধ করেছে ইজরায়েল সরকার। আমরা এখানে আতঙ্কে আছি।
বেতাইয়ের বাসিন্দা গোষ্ঠচরণ বিশ্বাস জানান, তাঁর দুই ছেলে বড় প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, ছোট চিরঞ্জিৎ বিশ্বাসকে বাড়তি রোজগারের আশায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ঋণ করে পাঠিয়েছি, বড় ছেলে প্রায় দেড় বছর আগে এবং ছোট ছেলে দুই মাস আগে গিয়েছে। বেতন ভালোই ছিল, কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে আছি। ছেলেরা ফোন করে জানিয়েছে, যখন তখন মিসাইল এসে পড়ছে। মিসাইল হামলার আগে মোবাইলে অ্যালার্ম বাজলেই বাঙ্কারে ঢুকতে হচ্ছে। ছেলেরা ফোন করে জানিয়েছে, কয়েকদিন তারা বাঙ্কারের মধ্যেই আছে। খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি সকলে যেন সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারে।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় বেতাই ১ নং ও ২ নং পঞ্চায়েত এলাকা থেকে প্রায় ১০০ যুবক ইজরায়েলে কর্মরত। শুধুমাত্র লালবাজার থেকেই ইজরায়েলে আছে প্রায় ৩০ জন, প্রত্যেক পরিবারে আতঙ্কের ছাপ। এছাড়াও প্রণয় বিশ্বাস, সুব্রত বিশ্বাস, গণেশ মজুমদার, চিরঞ্জিৎ সরকার, সুমন চৌধুরীদের পরিবারেও একই অবস্থা।