নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মাত্র দু’মাসের থেকেও কম সময়ে উন্নয়নমূলক কাজে ৬৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। নদীয়া জেলার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির স্তরে সেই উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে নদীয়া জেলায়। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিস্তরে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ টাকার প্রায় ৮০ শতাংশ ইতিমধ্যেই খরচ করে ফেলেছে জেলা। প্রশাসনের দাবি, অগ্রাধিকারভিত্তিতে পরিকল্পনার ফলেই উন্নয়নমূলক কাজের দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, আমরা প্রথম থেকেই উন্নয়নমূলক কাজে টাকা খরচের ব্যাপারে জোর দিয়েছিলাম। তাই গত বছর থেকেই অগ্রিম পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যাতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা ঢুকলেই কাজের গতি ত্বরান্বিত করা যায়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে নদীয়া জেলার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলির হাতে মোট বরাদ্দ ছিল ৮০ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ৬৪ কোটি ৫৬ হাজার টাকা ইতিমধ্যেই খরচ হয়ে গিয়েছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৮০ শতাংশ। তারমধ্যে নদীয়া জেলার ১৮৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত সম্মিলিতভাবে ৮১.৮৪ শতাংশ খরচ করেছে। অন্যদিকে, ১৮টি পঞ্চায়েত সমিতি সম্মিলিতভাবে খরচ করেছে ৭২ শতাংশ টাকা। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিস্তরে উন্নয়নমূলক কাজের নিরিখে শীর্ষস্থানে রয়েছে নদীয়া জেলার করিমপুর-২, হরিণঘাটা ও কৃষ্ণনগর-২ব্লক। করিমপুর-২ব্লক পেয়েছিল চার কোটি ১৭ লক্ষ ২২ হাজার টাকা। তারমধ্যে চার কোটি আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। খরচের হার ৯৭.৯৩ শতাংশ। হরিণঘাটা ব্লক পেয়েছিল দু’কোটি ৮০ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা। খরচ হয়েছে দু’কোটি ৬২ লক্ষ টাকা, অর্থাৎ ৯৩.৫০ শতাংশ। কৃষ্ণনগর-২ব্লক পেয়েছিল দু’কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। যার মধ্যে খরচ হয়েছে দু’কোটি ১০ লক্ষ টাকা, অর্থাৎ ৯৩.৪২ শতাংশ। পাশাপাশি কৃষ্ণনগর-১, চাপড়া, তেহট্ট-২, রানাঘাট-২, হাঁসখালি, করিমপুর-১, রানাঘাট-১ ও নবদ্বীপ ব্লকও বরাদ্দ টাকার ৮০-৯০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ করেছে। পিছিয়ে রয়েছে তেহট্ট-১, শান্তিপুর ও চাকদহ ব্লক। তেহট্ট-১ ব্লকে ৫৭.৫০ শতাংশ, শান্তিপুর ব্লকে ৬৬.৪৭ শতাংশ, চাকদহ ব্লকে ৭০.৩৫ শতাংশ হারে টাকা খরচ হয়েছে।



