Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধান বিক্রির তিনদিনের মধ্যেই এবার অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা

ধান বিক্রির মাত্র তিনদিনের মধ্যেই আকাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন চাষিরা। নভেম্বর মাসের গোড়াতেই চাষিদের থেকে সহায়ক মূল্যের ধান কিনতে নামছে খাদ্যদপ্তর।

ধান বিক্রির তিনদিনের মধ্যেই এবার অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ধান বিক্রির মাত্র তিনদিনের মধ্যেই আকাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন চাষিরা। নভেম্বর মাসের গোড়াতেই চাষিদের থেকে সহায়ক মূল্যের ধান কিনতে নামছে খাদ্যদপ্তর। সিপিসি ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমেও ধান কেনা হবে। এছাড়া প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য মোবাইল ভ্যানের ব্যবস্থা করছে খাদ্যদপ্তর। সহায়ক মূল্যে চাষিরা যেখানেই ধান বিক্রি করুক, তারা তিনদিনের মধ্যেই টাকা পেয়ে যাবেন। তবে, সরকারি ছুটি থাকলে দু’-একদিন দেরি হতে পারে। আগে ধান বিক্রি করার পর দেরিতে টাকা পেতেন। তা নিয়ে তাদের ক্ষোভ ছিল। সেই কারণেই সরকার কৃষকদের কথা ভেবে তিনদিনের মধ্যেই টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Advertisement

চাষিরা বলেন, দেরিতে টাকা পাওয়া গেলে বিভিন্ন সমস্যা হয়। ওই সময় রবি মরশুমের চাষ চলে। সেই খরচ ধান বিক্রির টাকায় উঠে আসে। সরকার দেরিতে টাকা দিলে ফড়েরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। ওই সময় তারা চাষিদের টাকা দিয়ে দেয়। সেই কারণে তাদেরকেই তারা ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়। ভাতারের চাষি শেখ আব্দুল বলেন, সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিন দিনের মধ্যে টাকা পাওয়া গেলে কোনও অসুবিধা হবে না, তবে ক্যাম্পের সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার। অনেক সময় দেখা যায়, গ্রাম থেকে বেশকিছুটা দূরে ক্যাম্প রয়েছে। এতটা দূরে ধান নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে নানা সমস্যা হয়। ঘরের কাছে ক্যাম্প থাকলে অধিকাংশ চাষি সরকারকে ধান বিক্রি করবে।
খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঠিক করা হয়েছে কুইন্টাল প্রতি ২ হাজার ৩৬৯ টাকা। ক্রয়কেন্দ্রে ধান নিয়ে যাওয়া হলে অতিরিক্ত ২০ টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে। একজন চাষি সর্বাধিক ৯০ কুইন্টাল পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, চাষিরা সুষ্ঠুভাবে যাতে ধান বিক্রি করতে পারেন তার সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি ক্রয় কেন্দ্রের উপর নজরদারি চালানো হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের খাদ্যদপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ গুফরানা ইয়াসমিন বলেন, ফড়েরা যাতে সুবিধা নিতে না পারে, তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসানোর জন্য বলা হয়েছে। ধান বিক্রির সময় চাষিরা কোনও অভিযোগ করলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক সময় ফড়েরা প্রান্তিক চাষিদের কাছে থেকে কুপন নিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করে। কমিশনার বিনিময়ে তাদের অ্যাকাউন্ট তারা ব্যবহার করে। সেটা যাতে তারা না করতে পারে, তার জন্য কমিটি গঠন করা হবে। কোন চাষি কত পরিমাণ ধান বিক্রি করছেন, তা নিয়ে ওই কমিটি নজরদারি চালাচ্ছে।  প্রতীকী ছবি

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ