সংবাদদাতা, ঘাটাল: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে না বাজতেই ফের অন্তর্কলহে দীর্ণ পদ্মশিবির। এবার ঘাটালের খোদ বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাটের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ ও স্বৈরাচারের অভিযোগ তুলে সরব হল দলেরই একাংশ। মঙ্গলবার সকালে ঘাটাল মহকুমা এলাকায় বিধায়কের কার্যালয়ের দেওয়ালে তাঁরই বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কোথাও মদ দোকানের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, আবার কোথাও খেয়াঘাটের বরাত পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই পোস্টারগুলিতে।
শীতলবাবু বলেন, ‘পোস্টারে যা লেখা রয়েছে ওই ধরনের কোনও ঘটনাই ঘটেনি। আসলে ভোট আসছে। তৃণমূল চক্রান্ত করে এসব করাচ্ছে।’ ঘাটাল শহরে কোন্নগরে পুরানো এলআইসি বিল্ডিংয়ে বিধায়কের কার্যালয়। সেই কার্যালয়ের দেওয়ালে এবং সংলগ্ন এলাকায় সাদা কাগজে কালো হরফে ছাপা একাধিক পোস্টার সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে। কোনও পোস্টারে লেখা, ‘মদের দোকানের লাইসেন্স বার করে দেওয়ার নাম করে লক্ষ-লক্ষ টাকা লুটেছেন শীতল কপাট। তাঁকে দ্বিতীয়বার প্রার্থী হিসেবে মানা হবে না।’ আবার কোনওটিতে লেখা, ‘হরিশপুর খেয়াঘাটের বরাত পাইয়ে দেওয়ার নামে সাড়ে উনিশ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে প্রতারণা করেছেন বিধায়ক।’ পোস্টারগুলির নিচে নিজেদের ‘আদি বিজেপি লড়াকু কর্মী সমর্থক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। পোস্টারেই অভিযোগ করা হয়েছে, বিধায়ক দলটিকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করছেন এবং সংগঠনে পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে স্বৈরাচার চালাচ্ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। যদিও বিজেপির জেলা নেতৃত্বের একাংশের দাবি, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের চক্রান্ত। তবে, নিচুতলার কর্মীদের এই প্রকাশ্যে বিদ্রোহে দলের ফাটল যে চওড়া হয়েছে, তা স্পষ্ট। অন্যদিকে, এই ইস্যু হাতছাড়া করতে নারাজ শাসকদল। তৃণমূলের ঘাটাল ব্লক সভাপতি দিলীপকুমার মাজি বলেন, ‘এতদিন ধরে বিভিন্নভাবে যা শুনে আসছিলাম, সেটাই পোস্টারে লেখা রয়েছে। বিজেপির কঙ্কালসার চেহারাটা আজ মানুষের সামনে চলে এসেছে।’ তৃণমূল নেতার প্রশ্ন, এটা দলেরই কর্মী নেতা ছাড়া কে আর ওখানে পোস্টার সাঁটাতে সাহস পাবে? তাঁদের বিধায়ক যে কাটমানি আর দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তা দলের কর্মীরাই ফাঁস করে দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে যে প্রতারণা করা হয়েছে, তার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ভোট যত এগিয়ে আসবে, বিজেপির এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও তীব্র হবে বলেও কটাক্ষ করেছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের সংযোজন, শুধু ঘাটাল নয়, সারা রাজ্যজুড়েই বিজেপির এই কঙ্কালসার চেহারাটা বারবার সামনে আসছে। তদন্ত হলে আরও বড় কোনও কেলেঙ্কারি সামনে আসতে পারে বলেও মত শাসকদলের।