Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা তছরুপকাণ্ড: লালবাজারের স্ক্যানারে একজন বিজেপি নেতা

২০২১ সালে অনে঩কেই ধরে নিয়েছিলেন বিজেপি ক্ষমতায় আসতে চলেছে। গেরুয়া শিবিরের মন্ত্রিসভাও অনেকেই তৈরি করে ফেলেছিলেন।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা তছরুপকাণ্ড: লালবাজারের স্ক্যানারে একজন বিজেপি নেতা
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ২০২১ সালে অনে঩কেই ধরে নিয়েছিলেন বিজেপি ক্ষমতায় আসতে চলেছে। গেরুয়া শিবিরের মন্ত্রিসভাও অনেকেই তৈরি করে ফেলেছিলেন। সেই স্রোতে গা ভাসিয়েছিল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ভক্ত মণ্ডলও। সেও খণ্ডঘোষ থেকে বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। টিকিট পাওয়ার জন্য এক বিজেপি নেতাকে সে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছিল বলে অভিযোগ। জনসংযোগ বাড়ানোর জন্য এলাকায় সে দানধ্যান শুরু করে। ক্যাম্প করে বস্ত্র বিলি করেছিল। ভক্তের কাছ থেকে টাকা নেওয়া বিজেপি নেতা এখন লালবাজারের গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে রয়েছেন। টিকিট পেতে প্রায় এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করার জন্য বাজারে ভক্তের দেনা বেড়ে যায়। সেই কারণেই সে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা তছরুপের ছক কষে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের আগে গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে থাকা খণ্ডঘোষের ওই বিজেপি নেতার মাটির বাড়ি ছিল। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে অশান্তির জেরে তাঁর মাটির বাড়ির দেওয়াল ভেঙে যায়। দল থেকে ওই নেতাকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। তাতে তিনি বাড়ির দেওয়াল তোলেন। কিন্তু তারপরই তিনি তাক লাগানো বাড়ি তৈরি করেন। সেটা নিয়ে দলেও চর্চা শুরু হয়। তবে প্রভাবশালীদের হাত মাথার উপর থাকায় সংগঠনে তাঁর গুরুত্ব বেড়ে যায়।

Advertisement

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা তছরুপের বিষয়ে ভক্ত বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করার জন্য গোয়েন্দারা অর্থদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিক্সড ডিপোজিট থেকে প্রায় দু’কোটি টাকা সরানো হয়েছিল। সে গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, বিষয়টি জানাজানি না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটি ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা হাতানোর ছক ছিল তার। সেগুলিও একইভাবে সরানো হতো। বিভিন্ন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হতো। লোপাট করা দু’কোটি টাকা দিল্লি, কলকাতা, নদীয়া সহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। গোয়েন্দারা সেই অ্যাকাউন্ট মালিকদের সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করেছেন। অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য তারা কি সুবিধা পেয়েছিল, সেটাও গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভক্ত যাদের টাকা দিয়েছে, তারাও স্ক্যানারে রয়েছে। বিশেষ করে ওই বিজেপি নেতার সম্পর্কে তাঁরা তথ্য জোগাড় করা শুরু করে দিয়েছেন। বর্ধমানের এক বিজেপি নেতা বলেন, ২০২১ সালে ভক্তকে ট্র্যাপে ফেলা হয়েছিল। অভিযুক্ত নেতা জানতেন, ভক্তর মোটা টাকা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। 
সে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করার সুবাদে মোটা টাকা বেতন পেত। টিকিট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভক্তকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভক্ত টিকিট পায়নি। সে হতাশায় ভেঙে পড়ে। যদিও ওই বিজেপি নেতা প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে সে কিছু করতে পারেনি। 
খণ্ডঘোষের হরেকৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ভক্ত আমাদের এলাকার বাসিন্দা। আমাদের গ্রাম থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকত। তবে ওর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। এখন শুনছি, ও নাকি টিকিট পাওয়ার জন্য কাউকে টাকা দিয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ