


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চণ্ডীগড়ে সাইবার জালিয়াতি। সেই টাকা এল কলকাতার ট্যাংরা এলাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। লেনদেনের সূত্র ধরে কলকাতায় এসে সোমনাথ সাহা নামের এক যুবককে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করল চণ্ডীগড় পুলিশ। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে চণ্ডীগড় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মাসখানেক আগে চণ্ডীগড়ের এক বাসিন্দার মোবাইলে ব্যাংককর্মী পরিচয় দিয়ে এক যুবক ফোন করে। তাঁকে বলা হয় কেওয়াইসি আপডেট নেই। কীভাবে আপডেট করতে হবে, তা জানতে চাইলে জালিয়াতরা বলে, একটি লিংক পাঠানো হচ্ছে। তাতে ক্লিক করে একটি ফর্ম ফিল-আপ করলেই হবে। তারপর তাঁর ফোনে একটি ওটিপি যাবে। সেটি শেয়ার করে দিলেই কেওয়াইসি আপডেট হয়ে যাবে। তিনি ওই ওটিপি জানালে তাঁর ব্যাংক থেকে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা উধাও হয়ে যায়। সাইবার জালিয়াতদের পাল্লায় পড়েছেন বুঝে অভিযোগ করেন চণ্ডীগড়ের স্থানীয় থানায়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ওই টাকা কলকাতায় এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। সেখান থেকে কিছু টাকা তোলাও হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট সোমনাথ সাহা নামের এক ব্যক্তির। তার বাড়ি ট্যাংরা এলাকায়। তারপর চণ্ডীগড় পুলিশের টিম কলকাতায় এসে ট্যাংরা থানার সহযোগিতায় সোমনাথকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, অভিযুক্তের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায়
কয়েকজন যুবকের পরিচয় হয়। তারা তাকে জানায়, অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিলে মোটা টাকা পাওয়া যাবে। অ্যাকাউন্টটি তার সিম দিয়ে খুলতে হবে। টাকার লোভে অ্যাকাউন্ট খুলে সেটি জালিয়াতদের দিয়ে দেয়। সেখানে চণ্ডীগড়ের ওই বাসিন্দার টাকা ঢুকেছিল। সেটি আবার ট্রান্সফার করার কথা ছিল অন্য অ্যাকাউন্টে। ধৃতের দাবি, সে মিউল অ্যাকাউন্টের বিষয়ে কিছু জানে না। তদন্তে উঠে এসেছে, এর আগেও তার অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছিল। সেটি জালিয়াতদের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেছে সে। বিনিময়ে কমিশন পেয়েছে। অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।