Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাকা ঢুকতেই গায়েব, প্রতারণার শিকার ১০ তদন্ত শুরু পুলিশের

শালতোড়ায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষাধিক টাকা গায়েব করেছে সাইবার প্রতারকরা।

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাকা ঢুকতেই গায়েব, প্রতারণার শিকার ১০  তদন্ত শুরু পুলিশের
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শালতোড়ায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষাধিক টাকা গায়েব করেছে সাইবার প্রতারকরা। শালতোড়া থানা এলাকার দু’টি পঞ্চায়েতের অন্তত ১০জনের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। উপভোক্তারা শালতোড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পেয়ে শালতোড়া থানা ও বাঁকুড়া জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের আধিকারিকরা তদন্তে নেমেছেন। ‘আধার এনাবেলড পেমেন্ট সিস্টেমে’র মাধ্যমে উপভোক্তাদের টাকা গায়েব করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে।
বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, শালতোড়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েবের ঘটনার তদন্ত চলছে। দ্রুত অপরাধের কিনারা করা যাবে বলে আমরা মনে করছি। বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তারা গরিব মানুষ। তাঁদের টাকা গায়েব করার ঘটনার যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে আমি পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলব। এর আগে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধার করেছে। শালতোড়ার উপভোক্তারা যাতে টাকা ফেরত পান, পুলিশকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

Advertisement


শালতোড়া ব্লকের রাঙামাটি গ্রামের বাসিন্দা মল্লিকা বাউরি বলেন, আমি ইটভাটায় কাজ করি। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর তৈরির জন্য সরকার আমার অ্যাকাউন্টে টাকা দিয়েছিল। এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায় আমার অ্যাকাউন্ট রয়েছে। চারদিন আগে পাসবই আপডেট করতে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারি। আমার অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ হাজার টাকা গায়েব হয়েছে। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা করেছি। তিনি আরও বলেন, আমি কাউকে ওটিপি দিইনি। কোনো লিংকেও ক্লিক করিনি। তা সত্ত্বেও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে।উল্লেখ্য, এবার বাঁকুড়ায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে এক লক্ষের কিছু বেশি উপভোক্তা নথিভুক্ত হয়েছেন। তাঁরা ইতিমধ্যেই বাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়ে গিয়েছেন। উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। সাইবার প্রতারকরা ওঁত পেতে বসেছিল। অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতেই তারা তা হাতিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। তবে, কয়েকজন উপভোক্তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকল্পের টাকা ঢোকার আগেই সঞ্চিত টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে। কীভাবে টাকা গায়েব করা হয়েছে? এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, প্রতারিতরা এর আগে কোনো সময় আধার কার্ডের মাধ্যমে (আধার এনাবেলড পেমেন্ট সিস্টেম) টাকা তুলেছিলেন। তখন তাঁরা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ দিয়েছিলেন। সাইবার প্রতারকরা ফিঙ্গার প্রিন্ট নকল করে টাকা আত্মসাৎ করেছে।শালতোড়া ব্লকের সালমা ও ঢেকিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব করা হয়েছে বলে এখনও পর্যন্ত পুলিশ জানতে পেরেছে। ওই দুই পঞ্চায়েত এলাকায় কোনো ‘সিএসপি’ থেকে আধার কার্ডের মাধ্যমে উপভোক্তারা টাকা তুলতেন কি না, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। সেক্ষেত্রে প্রতারকরা সেখান থেকে কোনোভাবে ফিঙ্গার প্রিন্টের তথ্য পেতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। তদন্তে নেমে পুলিশ কিছু সূত্র পেয়েছে। সেই সূত্র ধরে প্রতারকদের নাগাল পাওয়া যাবে বলে তদন্তকারীরা আশা করছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ