সন্তানের কাছে মাতৃঋণ আজীবনের। নিজের মাকে নিয়ে কতই না গল্প জড়িয়ে আছে জীবনের নানা বাঁকে। কিন্তু মায়েদের কথা আলাদা করে বলা হয় কই? বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা লিখছেন তাঁদের মায়ের কথা। এই পর্বে যশ দাশগুপ্ত।
সন্তানের কাছে মাতৃঋণ আজীবনের। নিজের মাকে নিয়ে কতই না গল্প জড়িয়ে আছে জীবনের নানা বাঁকে। কিন্তু মায়েদের কথা আলাদা করে বলা হয় কই? বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা লিখছেন তাঁদের মায়ের কথা। এই পর্বে যশ দাশগুপ্ত।
মাকে নিয়ে কথা বলতে গেলে আমার ভাণ্ডারে শব্দ কম পড়বে। কথা শেষই হবে না। কিন্তু, এই কথা শেষ না হওয়ার বিষয়টা আমরা বুঝতে পারি অনেক পরে। যখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। সন্তানের সঙ্গে কথা বলার জন্য মায়েরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। শুধু একটু কথা বলতে চান আমাদের সঙ্গে। ঠিক তখনই আমরা তাঁদের অনিচ্ছাকৃতভাবে ইগনোর করি। না বলা কথার পাহাড় জমা হয় আমাদের কাজের স্বার্থে। কারণ আমাদের সময় থাকে না। আমরা যে জীবনে টিকে থাকার ইঁদুর দৌড়ে শামিল! কালের নিয়মে সময় ফুরিয়ে আসে। তখন আপশোস ছাড়া আর কিছুই থাকে না। মায়ের কথা বলতে শুরু করলে এই দগদগে ক্ষতগুলোই মনে পড়ে। এগুলোই জমে আছে মনের ভিতর।
তিন বছর হয়ে গেল আমার মা নেই। এমনকী মায়ের শেষ সময়েও আমি মায়ের পাশে থাকতে পারিনি। তখন বিদেশে শ্যুটিংয়ে ছিলাম। এই কষ্ট আমাকে আজও কুরে কুরে খায়। আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারি না। মায়ের সঙ্গে আবার দেখা হলে প্রথম কথাটাই হবে ‘সরি’। সবার আগে মায়ের কাছে ক্ষমা চাইব। আমরা সবাই মাকে ভীষণভাবে ‘গ্রান্টেড’ করে ফেলি। আমরা ভাবি মা তো আমাদের জন্যই। কিন্তু, তাঁরাও যে একটা বয়সের পর আমাদের সঙ্গ চান, আমাদের সঙ্গে একটু মনের কথা খুলে বলতে চান সেটা আমরা ভুলে যাই। সেই সময়টুকু আমরা তাঁদের দিই না। এটা বুঝতে পারি অনেক পরে। তারপর শুধু আপশোস নিয়েই বেঁচে থাকি।
মায়ের সাপোর্ট না থাকলে আজকে অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত হতো না। কেরিয়ারের একদম শুরুর দিকে যখন আত্মীয়রাও তাচ্ছিল্য করেছিল তখন সব ঝড়ঝাপটা থেকে মা আমায় আগলে রেখেছিল। মা বলেছিল স্বপ্ন দেখাটা ছাড়িস না। মায়ের চোখে আমি ছিলাম ‘সুপারস্টার’। প্রথম কাজে খুব খারাপ অভিনয় করেছিলাম। বাবা বলেছিলেন, খুব খারাপ হয়েছে। আরও শেখো। কিন্তু, আমার মা বলেছিলেন আমার ছেলে সুপারস্টার। কারণ ছেলেকে অভিনেতা হিসেবে দেখার পিছনেও অনেক স্ট্রাগলের গল্প থাকে। অনেক প্রত্যাখ্যানের গল্প থাকে। তারপরেই সাফল্যের শিখর ছোঁয়া যায়।
একটা ঘটনা বলি, পরের দিন সকালে শ্যুটিং শুরু। কিন্তু, গভীর রাতে আমাকে জানানো হয়েছে আমার কলটাইম নেই। আমার জায়গায় অন্য কেউ অভিনয় করছেন। চোখের জলে একরকম বিনিদ্র রজনীও কাটিয়েছি মায়ের সঙ্গে।
আমার অভিনয়ের সবথেকে বড় ফ্যান ছিল আমার মা। মায়ের শিক্ষায়, মায়ের দেখানো পথেই জীবনের আর কয়েকটা মাইল এগিয়ে যেতে চাই। আমি মনে করি, আমাদের জীবনটা খুব ছোট। আমার কয়েকটা কাজ বাকি রয়েছে। সেই কাজগুলো শেষের পর মায়ের সঙ্গে ঠিক দেখা হবে। আমি জানি, মাও আমার অপেক্ষায় আছে। না বলা কথা জমেছে অনেকটা। সবটুকু শেয়ার করব।