Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অভিযুক্তদের ধরতে গিয়ে পুলিসকে বাধা, হাতাহাতি, ফের তপ্ত তামান্নার গ্রাম মোলান্দি

তমান্না খুনের এক মাসের মাথায় মঙ্গলবার রাতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কালীগঞ্জের মোলান্দি। সেখানে অন্য একটি ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে গিয়ে গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়ল পুলিস।

অভিযুক্তদের ধরতে গিয়ে পুলিসকে বাধা, হাতাহাতি, ফের তপ্ত তামান্নার গ্রাম মোলান্দি
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তমান্না খুনের এক মাসের মাথায় মঙ্গলবার রাতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কালীগঞ্জের মোলান্দি। সেখানে অন্য একটি ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে গিয়ে গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়ল পুলিস। পুলিসের সঙ্গে হাতাহাতি হয় গ্রামবাসীদের। এতে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী জখম হন।‌ তবে বাধার মুখে পড়েও কালীগঞ্জ থানার পুলিস দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে‌। ধৃতদের নাম সাদ্দাম শেখ এবং ঈদ মহম্মদ। দুজনেই সিপিএম কর্মী। বুধবার ধৃতদের কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাদ্দাম শেখকে চার দিনের পুলিসি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অপরজনকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। 

Advertisement

ধৃতরা তমান্না খুনের আন্দোলনের সামনের সারির সদস্য ছিল বলে দাবি সিপিএমের। পুলিসি ধরপাকড়ের সময় গ্রামবাসীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পুলিসের বিরুদ্ধে। বুধবার বেলার দিকে নিহত তমান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিন কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে’র সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কালীগঞ্জের সিপিএম নেতা এবং বেশ কয়েকজন জখম গ্রামবাসী। তমান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমার মেয়ের খুনের সাক্ষীদের পুলিস মারধর করছে। খুনিদের ধরার কোনও সদিচ্ছা নেই পুলিসের।‌ উল্টে অত্যাচার করছে। পুলিসের উপর আমার ভরসা উঠে যাচ্ছে। বিনা দোষে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। যদিও তাঁর এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই দাবি পুলিসের। 
জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে মোলান্দিতে থানার ওসি’র গাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজির ঘটনায় ধরা পড়েছিল এই সাদ্দাম শেখ। যার জন্য ৪৯১ দিন জেল খাটে সাদ্দাম। ওই একই ঘটনায় অভিযুক্ত ঈদ মহম্মদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছিল। আদালতে আত্মসমর্পণের পর সেও জেল খাটে। প্রশ্ন উঠছে, এরকম ব্যক্তিদের বাঁচানোর জন্যেই কি সিপিএম বিষয়টির রাজনীতিকরণ করছে? সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, তমান্না খুনের ১৪ জন অপরাধী ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু পুলিস কোনও অজানা মামলায় গ্রামের লোকজনকে ধরছে, যারা এই ঘৃণ্য অপরাধের প্রতিবাদ করেছিল। কালীগঞ্জের ব্লকের তৃণমূলের সহ সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় আমরাও মর্মাহত। কিন্তু সিপিএম ঘটনাটি নিয়ে রাজনীতি করছে। 
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, অন্য একটি ঘটনার অভিযুক্তদের ধরতে গ্রামে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে তাদের ধরতে বাধা দেওয়া হয়। মৃতের মা কথা বলতে এসেছিলেন। তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে।‌
গত মাসে ২৩ জুন তৃণমূলের ছোড়া বোমের আঘাতে মৃত্যু হয় মোলান্দির দশ বছরে শিশু তমান্না খাতুনের। ওই রাতেই ধরা পড়ে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী আনোয়ার শেখ। তাঁর ভাগ্নে বাদশা শেখ ওই রাতে মোলান্দিতে নিজের কাঠের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিল। সেইসময় সিপিএম লোকজন তাদের উপর চড়াও হয়। ছুরি দিয়ে আঘাত করে বাদশাকে। তারপর তাকে গুরুতর জখম অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ২৬ জুন এনিয়ে কালীগঞ্জ থানার ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তাতেই ধৃত দুজনের নাম ছিল। মঙ্গলবার রাতে তাদের ধরতেই পুলিস মোলান্দিতে যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ