Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

আড়ালে থেকেই আলোচনার রাশ ধরে রেখেছেন মোজতবা, দাবি আমেরিকার

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে আমেরিকার আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে। তবে আলোচনায় বিলম্বিত অগ্রগতির জন্য একে অপরকে দুষছে ইরান ও আমেরিকা।

আড়ালে থেকেই আলোচনার রাশ ধরে রেখেছেন মোজতবা, দাবি আমেরিকার
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে আমেরিকার আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে। তবে আলোচনায় বিলম্বিত অগ্রগতির জন্য একে অপরকে দুষছে ইরান ও আমেরিকা। চলতি পরিস্থিতিতে খুব তাড়াতাড়ি কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই বলে মত তেহরানের। অন্যদিকে, আলোচনায় জটিলতা রয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন গোয়েন্দারা  ইরানের শাসন কাঠামোকেই দায়ী করছেন। গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে পুরো আলোচনাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। তবে তাঁর সাকিন জানা নেই ইরানের অনেক শীর্ষ পদাধিকারিকেরও। ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ আক্রমণে যুদ্ধ শুরুর মাঝপর্বেই গুরুতর আঘাত পান মোজতবা। এরপর থেকেই সতর্কতা হিসাবে তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে। সেখানে নেই যোগাযোগের আধুনিক কোনো ব্যবস্থা। কোনো প্রয়োজন পড়লে লোক মারফৎ খবর পাঠাতে হচ্ছে। এক মুখ থেকে অপর মুখে খবর যাচ্ছে মোজতবার কাছে। একইভাবে রিলে পদ্ধতিতে ফিরে আসছে তাঁর মতামত। তাই দ্রুত কোনো মতামত জানাতে পারছেন না আমেরিকার সঙ্গে আলোচনারত ইরানি প্রতিনিধিরা। এই নিয়ে ইরানি প্রতিনিধিরাও অসন্তুষ্ট বলে সিবিএস নিউজের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। 

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে একটাই প্রশ্ন ঘোরা ফেরা করছে বিশ্বজুড়ে, আবার কি যুদ্ধে ফিরবে দুই বিবদমান দেশ? এই নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এখনও ইরান পুরোদস্তুর আলোচনা শুরু করেনি। এই মুহূর্তে চুক্তি নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়েছি মার্কিন প্রতিনিধিদের। পরিস্থিতি এখন আমাদের পক্ষেই রয়েছে।’ 
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চলছে পশ্চিম এশিয়ায়। নতুন করে যুদ্ধ শুরু না হলেও ‌উ঩ত্তেজনা কমেনি এতটুকু। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে স্বাভাবিক অবস্থা কবে ফিরবে, তার কোনো সদুত্তর নেই। ফলে জ্বালানি সংকট অব্যাহত রয়েছে। 
চুক্তি কোথায় আটকাচ্ছে? ইরানের প্রতিনিধিদের মতে, চুক্তিতে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি যুক্ত করতে চাইছে আমেরিকা। সেখানেই তেহরানের আপত্তি। এ প্রসঙ্গে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, মউ চুক্তি স্বাক্ষরের পরেই পরমাণুর মতো অন্য বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা যাবে। এরপরেই সতর্ক ইসমাইলের মন্তব্য, ‘আলোচনার বিষয়গুলির একটি বড় অংশের ওপর আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। এটি ঠিক। তবে তার মানে এই নয় যে চুক্তি স্বাক্ষর আসন্ন।’ 
এরইমধ্যে জানা গিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে বকেয়া গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার জন্য কাতারে গিয়েছেন ইরানের শীর্ষ আলোচনাকারীদের দল। ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ