Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

অশান্ত হরমুজ, আরব আমিরশাহির ট্যাঙ্কারে হামলা, নিহত এক ভারতীয় নাবিক, আশঙ্কাজনক আরো আট

হরমুজে আরব আমিরশাহির ট্যাঙ্কারে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। আহত ৮, এর মধ্যে ৬ ভারতীয়। বিস্তারিত জানুন।

অশান্ত হরমুজ, আরব আমিরশাহির ট্যাঙ্কারে হামলা, নিহত এক ভারতীয় নাবিক, আশঙ্কাজনক আরো আট
  • ১৪ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৪৩
Prefer us on Google

তেহেরান, ১৪ জুলাই: ফের হরমুজে দুটি আরব আমিরশাহির দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে এল ইরানের বিরুদ্ধে। এই হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুজন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

মোমবাসা এবং আল বাহিয়াহ নামের দুটি ট্যাঙ্কার ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে দিয়ে হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ শিপিং লেন অতিক্রম করার সময় এই হামলার শিকার হয়। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, 'এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক আইনকে গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির নিরিখে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে। 

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে বেশিরভাগ পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালী দিয়েই আমদানি রপ্তানি করা হয়। ফলে হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১.৯২ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও আগে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ১২০ জলারে পৌঁছে ছিল। বর্তমানে তার থেকে কম হলেও এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

অন্যদিকে, সেন্টকম সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকমের দাবি, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা হবে এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা কমিয়ে আনা হবে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর দাবি, এখন থেকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও তদারকির দায়িত্ব আমেরিকার হাতে থাকবে। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়েই জাহাজগুলোর কাছ থেকে এই শুল্ক নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে ইরানের জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এলাকাজুড়ে অবরোধ জোরদার করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।

রবিবার হরমুজ প্রণালীতে একটি কন্টেনার জাহাজে ইরানের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রায় ১৪০টি স্থানে বিমান হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ভোররাতে ইরান বাহরিন, কুয়েত, ইরাক ও জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আই-ফর-অ্যান-আই’।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। তাই এর ওপর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ইরান সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং সেখানে বিশ্বের কোনো দেশের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ মেনে নেওয়া হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ