


সাত গোল হজম! সোমবার আইএসএলে ইস্ট বেঙ্গল বনাম মহমেডান ম্যাচের স্কোরলাইন দেখার পর একজন প্রাক্তন সাদা-কালো ফুটবলার হিসেবে সত্যিই মাথা হেঁট হয়ে আসছে। এই ফুটবলারদের জার্সি কে বা কারা দিয়েছেন? কীসের ভিত্তিতে দিয়েছেন? এদের কাছে আদৌ কি এই ক্লাবের প্রতি কোনও দায়বদ্ধতা রয়েছে? একটা সময় এই সাদা-কালো জার্সি গায়ে কত যুদ্ধ জয় করেছি। দুরন্ত দল ছিল তখন। গোলে নাসির আহমেদ। মইদুল ইসলাম, মিহির বসু, আমি। একের পর এক ট্রফি জিতেছে। অথচ এখন দল মাঠে নামলে আতঙ্কে থাকি, আজ কত ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়বে।
গত কয়েক বছর ধরেই ক্লাবের অন্দরে ডামাডোল চলছে। বর্তমানে যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাদের ফুটবল নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই। শুধুই নিজের গদি সামলাতে ব্যস্ত। ফলে ফুটবলটা রসাতলে গিয়ে ঠেকেছে। কোনওমতে একটা দল মাঠে নামাতে পারলেই হল। একের পর এক লজ্জার হারে যে মহমেডান স্পোর্টিংয়ের গরিমা নষ্ট হচ্ছে, তা নিয়ে কারও ভ্রুক্ষেপ নেই। জানি, এখন ফুটবল দল চালাতে হলে অর্থ অবশ্যই বড় ফ্যাক্টর। তার জন্য কর্তাদের তাগিদ দেখাতে হবে। ঠিক তেমনই দায়বদ্ধতা থাকা দরকার ফুটবলারদের। সোমবার ইস্ট বেঙ্গলের বিরুদ্ধে একজন ফুটবলারকে দেখলাম না, যার কাছে সাদা-কালো জার্সিটার প্রতি বিন্দুমাত্র আবেগ রয়েছে। আর গোলরক্ষক পদম ছেত্রীকে নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। আমাদের সময় হলে ও মাঠ ছেড়ে বেরতে পারত না। সমর্থকদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার ওকে কে দিয়েছে? এভাবে পাড়ার ফুটবলেও কেউ গোল হজম করে না। কোচ মেহরাজউদ্দিনের আদৌ কি কোনও স্ট্র্যাটেজি থাকে? ফুটবলের সাধারণ পাঠটাই তো ছেলেদের শেখাতে ব্যর্থ সে। আমার মতে, ক্লাবের সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য অবিলম্বে টেকনিক্যাল কমিটি করা উচিত। আমাদের মত অনেকে এখনও এই ক্লাবকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসেন। আমি নিশ্চিত, তারা দলের স্বার্থে এগিয়ে আসবে। না হলে খুব তাড়াতাড়ি মহমেডান স্পোর্টিংয়ের গা থেকে প্রধানে’র তকমা খুলে পড়বে।