সংবাদদাতা, সিউড়ি: প্রায় দেড় বছর ধরে বিকল মহম্মদবাজার গ্রামীণ হাসপাতালের জেনারেটর। লোডশেডিং হলেই বিপাকে পড়তে হয় রোগীর আত্মীয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। বারবার আবেদন করেও সুরাহা হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকেই হাসপাতালের জেনারেটরের মাঝেমধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিত। কিন্তু, ২০২৪ সাল থেকে জেনারেটর সম্পূর্ণভাবে বিকল হয়ে যায়। তাতেই নানা সমস্যায় পড়তে হয় রোগীর আত্মীয়দের এবং হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মহম্মদবাজার গ্রামীণ হাসপাতালে মোট ৩০টি বেড রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। তাই, গ্রামীণ হাসপাতাল হলেও মহম্মদবাজার ব্লকের লোকজনের জন্য হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে জেনারেটর খারাপ থাকায় লোডশেডিং হলে প্রচণ্ড সমস্যা হয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মের সময় প্রয়াশই লোডশেডিং হয়। তখন রোগীদের গরম থেকে রেহাই পেতে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে বসতে হয়। এখন বর্ষার মরশুম চলছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রয়াশই ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। তার জন্যও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। ফলে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। গত মাসে ঝড়ের জন্য বিদ্যুতের তারে গাছ পড়ে যায়। তার জেরে গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই সময় প্রায় ১২ ঘণ্টা হাসপাতালে বিদ্যুৎ পরিষেবা ছিল না।
কর্তৃপক্ষের দাবি, জেনারেটর খারাপ থাকায় সেই সময় হাসপাতালের একটি বড় অংশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। যেহেতু হাসপাতালের একটি অংশে ইনভার্টার রয়েছে। সেই রুমে বৈদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও অধিকাংশ হাসপাতাল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে। তাই লোডশেডিং হলে রোগীদের ওই রুমে ডেকে চিকিৎসা করতে হয়। অনেক সময় রোগীদের সেই রুমে ডেকে ইঞ্জেকশন, ওষুধ দেওয়া হয়। তাতেই রোগীর আত্মীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বারবার রোগী ও রোগীর আত্মীয়রা এনিয়ে অভিযোগও জানিয়েছেন। কিন্তু, সমস্যার সুরাহা এখনও হয়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জেনারেটর যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নতুন জেনারেটর বসানো একমাত্র রাস্তা। কিন্তু, তা করতে খরচ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। হাসপাতালের ফান্ডে অত টাকা নেই।
স্বাভাবিকভাবেই সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। মহম্মদবাজারের ব্লকের বিএমওএইচ সারওয়ার হোসেন পুরকাইত বলেন, অনেকদিন ধরেই জেনারেটরটা খারাপ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু, এখনও কোনও সমস্যার সুরাহা হয়নি। নতুন জেনারেটর বসানো গেলে ভালো হয়। রোগীর আত্মীয়রাও উপকৃত হবে। সাঁইথিয়ার বিধায়ক নীলাবতী সাহা বলেন, খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধান করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সিএমওএইচ ও স্বাস্থ্যদপ্তরকে জানিয়েছি। দ্রুত সমাধান করা হবে। -নিজস্ব চিত্র