Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মোদির শারদ শুভেচ্ছার চিঠি অবহেলায় পড়ে পার্টি অফিসে, মেদিনীপুরে বিজেপির সংগঠন প্রশ্নের মুখে

দুর্গা পুজোর পর কালী পুজো। পেরিয়ে গিয়েছে জগদ্ধাত্রী পুজোও। এখন শীতের আমেজে মত্ত বাঙালি

মোদির শারদ শুভেচ্ছার চিঠি অবহেলায় পড়ে পার্টি অফিসে,  মেদিনীপুরে বিজেপির সংগঠন প্রশ্নের মুখে
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর:  দুর্গা পুজোর পর কালী পুজো। পেরিয়ে গিয়েছে জগদ্ধাত্রী পুজোও। এখন শীতের আমেজে মত্ত বাঙালি। অথচ, এখনও বিজেপির পার্টি অফিসে বাণ্ডিল বাণ্ডিল পড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘শারদ শুভেচ্ছা’র চিঠি! মোদি চেয়েছিলেন শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে বাংলার মানুষের মনজয় করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সেই চিঠি সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতে চূড়ান্ত ব্যর্থ দলের কর্মীরা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে মেদিনীপুরের সাংগঠনিক শক্তি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছেন জেলার গেরুয়া শিবিরের নেতারা। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, খুবই উন্নতমানের কাগজে মোদির স্বাক্ষর সহ শুভেচ্ছা বার্তা ছাপানো হয়েছে। উৎসবের মরশুমে মানুষের আনন্দ, শান্তি, সমৃদ্ধির প্রার্থনাও করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপির এক প্রবীণ জেলা নেতা আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘দল হাজার হাজার টাকা খরচ করে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছে। কিন্তু উৎসব মরশুম পেরিয়ে গেলেও  সেই চিঠি পৌঁছল না কারও কাছে। সংগঠন দুর্বল বলেই এই হাল। দুর্গা পুজোর সময়ই বাড়িতে বাড়িতে চিঠিটি পাঠালে ভালো বার্তা যেত।’ পশ্চিম মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাসের অবশ্য  সাফাই, ‘বিপুল সংখ্যক শুভেচ্ছা বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অল্প হয়তো কিছু পড়ে রয়েছে। জেলায় আমাদের সংগঠন মজবুত।’ 
বাংলায় বিজেপির উত্থান-কেন্দ্রগুলির একটি ছিল মেদিনীপুর। ডাকাবুকো নেতা দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে সংগঠনের প্রসারও বেশ ভালো হয়েছিল বলে রাজনৈতিক শিবিরের মত। তার সুফলও মিলেছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে জয় পেয়েছিল গেরুয়া শিবির। তারপর থেকে আর একটিও নির্বাচনে গেরুয়া শিবির জিততে পারেনি। ‘সাজানো বাগান’ থেকে দিলীপকে উৎখাত করে দেওয়াটা কাল হয়েছে বলে রাজনীতির কারবারিরা মনে করেন। ফলস্বরূপ, বাড়তে থাকে সংগঠনের দুর্বলতা ও গোষ্ঠীকোন্দল। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই নিচুতলার সংগঠনের শক্তি তলানিতে ঠেকে। যার প্রভাব পড়ে  গত লোকসভা নির্বাচনে। এবার বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ঘুঁটি সাজাতে চাইছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, যাঁরা প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দিতে পারেননি, তাঁরা ভোটে জেতার কথা ভাবেন কী করে? এই প্রশ্ন শুধু জেলাবাসীর নয়, দলের অন্দরেও উঁকি মারছে। আড়ালে আবডালে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন অনেকেই। 
জেলার এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘দল ক্ষমতায় না এলেও গোষ্ঠীকোন্দল দিন দিন বাড়ছে। সংগঠন বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নেই। শুধু লক্ষ্য কে কোন পদ পাচ্ছেন। কাজের ভিত্তিতে নেতারা পদ পাচ্ছেন না। নিচুতলার সঙ্গে উঁচুতলাতেও প্রচণ্ড রেষারেষি। এসআইআরের কাজেও বহু নেতা বসে পড়েছেন। দলের নির্দেশ অনেকেই মেনে চলছেন না। ছন্নছাড়া ভাব সবার মধ্যেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পড়ে রয়েছে পার্টি অফিসগুলিতে।’ জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘সাংগঠনিক দুর্বলতার সঙ্গে ভয়ও কাজ করছে ওদের। কারণ, মোদির চিঠি নিয়ে গেলে সাধারণ মানুষ মুখের উপর তা ছুঁড়েও দিতে পারেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের সাংসদরা বাংলার মানুষের জন্য কিছুই করেননি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ