নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গবাসীকে বিশেষ উপহার দিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেভকের করোনেশন ব্রিজের কাছেই ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা নদীর উপর ছয় লেনের নয়া সেতু নির্মাণের অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার বিভাগীয় মন্ত্রী নীতিন গাদকারি সামাজিক মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন এই পরিকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণা করেন। মন্ত্রীর কথায়, দার্জিলিং জেলার সেভকে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর এই ৬.৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু তৈরি হবে। যার মাধ্যমে শিলিগুড়ি করিডোরের সঙ্গে সিকিম-উত্তর-পূর্ব ভারতের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মসৃণ হবে। প্রস্তাবিত এই সেতু তৈরি হয়ে গেলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে যাতায়াতের সময় অনেকাংশে কমবে। যা পাশ্ববর্তী এলাকার অর্থনীতি মজবুত করবে বলে দাবি গাদকারির।
এই প্রকল্প নিয়ে উচ্ছ্বসিত দার্জিলিংয়ের বিজেপি এমপি রাজু বিস্তা। এদিন টেলিফোনে তিনি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে প্রস্তাবিত এই সেতু নির্মাণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তৃণমূল আমলে এই নির্মাণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি ছাড়পত্র মিলছিল না। অর্থাৎ পাহাড় ও সমতলের লক্ষ লক্ষ মানুষের দাবি কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিগত মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার চূড়ান্ত অসহযোগিতা করেছে বলেও অভিযোগ তাঁর। এদিন রাজুবাবু আরও বলেন, কেবলমাত্র যাতায়াতের ক্ষেত্র সহজতর হবে তা নয়, সেভকের নয়া সেতুর মাধ্যমে ভুটান, চীন সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সীমান্তে দ্রুত পৌঁছাতে পারবে ভারতীয় সেনা। এক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত এই সেতুকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসাবে অভিহিত করেন রাজু বিস্তা। এই সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট সময় শেষে সরকারি নিয়ম মেনে নির্মাণকারী সংস্থা নির্বাচন হবে। তারপর পরিকল্পনা রূপায়ণে ২ বছর সময় লাগব।
এই খবরে রীতিমতো খুশির হাওয়া রাজ্যের উত্তরপ্রান্তে। ডুয়ার্স ফোরাম ফর সোশ্যাল রিফর্মসের সম্পাদক চন্দন রায় বলেন, তিস্তা নদীর একদিকে সেভক বাজার, আর একদিকে এলেনবাড়ি চা বাগান। সংশ্লিষ্ট দুই এলাকার মধ্যে সেতুটি সংযোগ করবে। ইতিমধ্যে রেল, চা বাগান ও সুন্দরী বস্তি থেকে জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর তরাই, ডুয়ার্সের পাশাপাশি সমগ্র উত্তরবঙ্গবাসীর উপকার হবে। উত্তরবঙ্গ প্যাসেঞ্জার ট্রান্সপোর্ট ওনার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির সম্পাদক প্রণব মানির কথায়, করোনেশন সেতুর বিকল্প সেতু গড়ার দাবি বহুদিনের। এটা বাস্তবায়িত হওয়ার পর সড়ক যোগযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। সেভকের করোনেশন সেতু বা বাঘপুলের শিলান্যাস হয় ১৯৩৭ সালে। ১৯৪১ সালে সেটির উদ্বোধন করা হয়। ডুয়ার্স ফোরাম ফর সোশ্যাল রিফর্মসের সম্পাদক বলেন, সংশ্লিষ্ট সেতুকে হেরিটেজ ঘোষণা করা এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে সেটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো দাবি রাজ্য সরকারের কাছে জানিয়েছি।