Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মোদির চিঠি তারেককে, পাক স্পিকারের সঙ্গে করমর্দন জয়শংকরের, খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কূটনীতির নিখুঁত চাল ভারতের

চমকপ্রদ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তিগুলিকে রীতিমতো ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে ভারত।

মোদির চিঠি তারেককে, পাক স্পিকারের সঙ্গে করমর্দন জয়শংকরের, খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কূটনীতির নিখুঁত চাল ভারতের
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: চমকপ্রদ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তিগুলিকে রীতিমতো ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে ভারত। বিএনপি সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিতে যাবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর, সেটি মঙ্গলবারই জানা গিয়েছিল। বুধবার নরেন্দ্র মোদি আরও বড় চমক দিলেন। খালেদা জিয়ার পুত্র, বিএনপি কার্যনির্বাহী সভাপতি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জয়শংকর শুধু সমবেদনা জানালেন না, পৌঁছে দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর লেখা ব্যক্তিগত চিঠিও। খালেদা জিয়ার জীবনাবসান যে এক উপমহাদেশের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য যাত্রার পথে এক বড়সড় ক্ষতি, চিঠিতে সেকথা জানিয়ে মোদি গভীর শোকপ্রকাশ করে ব্যক্তিগত সহানুভূতি জ্ঞাপন করলেন তারেক রহমানকে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে জয়শংকরের কোনও সৌজন্য সাক্ষাৎ হল না। যদিও ঢাকায় হাজির পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সর্দার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সবটাই নিখুঁত দাবার চাল।

Advertisement


জয়শংকর অবশ্য এই ঝটিকা সফরের পর বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন এবং মূল্যবোধ একইভাবে আগামী দিনে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে চালিত করবে। শেখ হাসিনাকে অবশ্যই এই অস্থির সময়ে কোনওভাবেই প্রত্যর্পণ করবে না নয়াদিল্লি। কিন্তু ভারত যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অঙ্গ হতে চায় না, নিরপেক্ষ এক প্রতিবেশী হয়েই থাকতে চায়— বিএনপিকে সেই বার্তা দেওয়া হল। আওয়ামি লিগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং জামাত ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের মূলস্রোতের রাজনৈতিক দল। সুষ্ঠু রাজনীতি এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতাসীন হবে, ভারত ঩সেই সরকারকেই স্বীকৃতি দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাবে। নীতিগতভাবে জামাতের সঙ্গে ভারতের কোনও দলেরই মধুর সম্পর্ক নয়। কিন্তু বিএনপি আমলে খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় দিল্লি-ঢাকা কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। সেটা যে আগামী দিনেও থাকবে, ভারত সেই বার্তা দিয়ে রাখল এদিন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে ঐতিহাসিকভা঩বেই ভারতের সুসম্পর্ক। ১৯৭৫ অথবা ২০২৪, যখনই তিনি সংকটে পড়েছেন, তখন নির্দ্বিধায় ভারতে আশ্রয় পেয়েছেন। সুতরাং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অথবা নির্বাচিত অন্য সরকার চাইলেই যে হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য ভারত প্রত্যর্পণ করবে, সেই সম্ভাবনা একপ্রকার শূন্য। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগ করে ভারতে আসতে হয়েছে। কিন্তু যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, সেসব মান্য করা হয়নি। মহম্মদ ইউনুসের সরকারের আমলে বাংলাদেশে অরাজকতা তুঙ্গে। এবং রাজনৈতিক গুরুত্বপ্রাপ্তির সহজ পন্থাই হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতকে হুমকি দেওয়া। বেড়েছে হিংসা ও সংখ্যালঘু হিন্দু পীড়ন। কিন্তু ভারত লক্ষ্য করেছে, তারেক রহমান দেশে ফিরেও সরাসরি দিল্লিকে টার্গেট করে কোনও বিবৃতি দেননি।

পরিণতমনস্কতার সঙ্গে সঙ্গে সংযমের পরিচয় দিয়েছেন এখনও পর্যন্ত। তার সুযোগ নিয়েই খালেদা জিয়ার জানাজা যাত্রার মুহূর্তে বিএনপিকে মৈত্রী ও সহযোগিতার বার্তা দিয়েছে ভারত। স্বাভাবিকভাবেই একদিকে জামাত ও অন্যদিকে ইউনুস সরকার এই কৌশলে কিছুটা কোণঠাসা হবে। কারণ, এটা নিয়ে সন্দেহ নেই যে, আওয়ামি লিগহীন আসন্ন নির্বাচনে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে বিএনপি। তারেক রহমানই আগামী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বলে কমবেশি একমত আন্তর্জাতিক মহল। তাই ভারতও মুন্সিয়ানার সঙ্গে আগাম কূটনৈতিক মহড়া দিয়ে রাখল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ