নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদি সকলের অলক্ষ্যে অন্য রণকৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন? বিরোধী জোট দাবি তুলছে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা, তারই সঙ্গে বলা হচ্ছে ভোট চুরির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহেরও ছাড় নেই। তাঁদের সরে যেতে হবে আগামী দিনে। ‘মোদি কো যানা হোগা’। এবং ‘ইটস ডান ব্রো’— এই দুই স্লোগান দিয়ে পোস্টার ও মিম তৈরি করে প্রচারে নেমেছে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলি। এবার বিজেপি পালটা স্লোগান শুরু করেছে, ‘মোদি কহি নেহি যায়েঙ্গে’। শুক্রবার গুজরাতের বনসকাঁথায় একটি অনুষ্ঠানে মোদি যোগ দেওয়ার পর সেই সভায় স্লোগান ওঠে, মোদি কোথাও যাবেন না। ওই স্লোগান যে নিছক বিক্ষিপ্তভাবে মোদির দুর্গ গুজরাতের বনসকাঁথায় শোনা গেল এমন নয়। শনিবার দেখা গেল সবটাই পরিকল্পিত। এবার রাজস্থানের এক শিল্পী তৈরি করেছেন গান, ‘মোদি কহি নেহি জায়েঙ্গে’। সেই গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন সিং মেঘওয়াল। রাজস্থানের ওই গানের পরই গুজরাতে শনিবার নতুন স্লোগান উঠেছে, ২০২৯ সালে আবার মোদি। সুতরাং, ‘মোদি কোথাও যাবেন না’ স্লোগান, তারপর গান, এবার ‘২০২৯ সালে আবার মোদি’ স্লোগান। এভাবে মোদি কি নিছক রাহুল গান্ধী অথবা বিরোধী জোটকেই বার্তা দিলেন? নাকি পরোক্ষে নিজের দলকেও স্পষ্ট বোঝাচ্ছেন যে, তিনি আগামী দিনে অবসরের রাস্তায় মোটেও যাবেন না। ২০২৯ সালে আবার মোদি। একদিকে যেখানে বিজেপির অন্দরে এবং রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, মোদির পর কে? যোগী আদিত্যনাথ? নাকি অমিত শাহ? এগিয়ে কি অমিত শাহই? এসব জল্পনায় জল ঢালতেই কি মোদি সুক্ষ্মভাবে এইসব স্লোগান, গান এবং প্রচারকে উপভোগ করছেন? বিরোধীদের আন্দোলন এবং বিক্ষোভকে শনিবার প্রত্যাঘাত করেছেন। তিনি বলেন, বিরোধীরা যা করছে, তা আসলে উন্নয়নের বিরুদ্ধাচারণ। দিমাগি নকশালীদের চিহ্নিত করা দরকার। এরা অগ্রগতিতে বাধা দিচ্ছে। নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। সোজা কথায়, মোদি নীরব থাকছেন না। এবার ইন্ডিয়া জোটের তাবৎ অভিযোগের বিরুদ্ধে জবাব দিতে শুরু করেছেন। তাঁর দল বিজেপিও সঙ্গত করে বলছে, ২০২৯ সালে আবার মোদি!



