নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আজ, দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শস্যগোলার চাষিরা। কয়েক বছরে সারের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। সার কিনতেই চাষিদের মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। তারপরে আবার সব সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার কেন্দ্র রাজ্যে পাঠায় না। তখন শুরু হয় কালোবাজারি। আরও বেশি টাকা খরচ করে চাষিদের ১০:২৬:২৬, ডিএপি’র মতো সার কিনতে হয়। কেন্দ্রীয় সরকার সারে ভর্তুকি বাড়ালে চাষিদের স্বস্তি মিলবে। এদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তেমন কিছু ঘোষণা করেন কি না, সেটা শোনার জন্যই চাষিরা মুখিয়ে রয়েছেন। এখন চাষের মরশুম। ধান রোপণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই সময়েই প্রধানমন্ত্রী সভা করতে আসছেন। তাই চাষিদের প্রত্যাশা বেড়েছে।
গলসির ধান চাষি অনুপ দাস বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ধানের সহায়ক মূল্য বাড়ায়নি। অথচ সারের দাম বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ১০:২৬:২৬ সারের দাম অনেক বেশি। আলু চাষ এই সার ছাড়া ভালো হয় না। পূর্ব বর্ধমানে ধানের মতোই বিস্তীর্ণ এলাকায় আলু চাষ হয়। এখান থেকে আলু অসম, বিহারের মতো রাজ্যগুলিতে যায়। সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেই লাভ হচ্ছে না। এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কোনও কোনও বছর খরচ আরও বেড়ে যায়। বেশির ভাগ খরচ হয় সার কিনতে। মেমারি-২ ব্লকের আলু চাষি সামাদ মোল্লা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার চাষিদের কথা ভাবে না। সেই কারণে চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না। গত কয়েক বছরে প্রতি কুইন্টালে সারের দাম ৮০০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উচিত দুর্গাপুরের সভা থেকে সারের উপর ভর্তুকি বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা।
জেলার বাসিন্দারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী এর আগেও দুর্গাপুরে সভা করে গিয়েছেন। সভার পর ইস্পাতনগরীর একটি বন্ধ কারখানা খোলেনি। দুর্গাপুরেই ফার্টিলাইজার কারখানা ছিল। সেটি খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি শিল্প বা কৃষি নিয়ে সদর্থক কিছুই এখানে এসে ঘোষণা করেননি। তার খেসারত বিজেপি’কে দিতে হয়েছে। বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রটি তারা ধরে রাখতে পারেনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। চাষি ও শ্রমিকদের জন্য কিছু ঘোষণা না করলে তার খেসারত বিজেপিকে দিতে হবে। সেটা প্রধানমন্ত্রীর দল ভালোই বোঝে। তাই জেলার নেতারাও চাইছেন, তিনি নতুন কিছু ঘোষণা করুন। বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাষিদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছেন। আগামী দিনেও তিনি চাষিদের পাশেই থাকবেন।
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোনও প্রতিশ্রুতিই রাখেন না। তাঁর ঘোষণা মতো কারও অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা যায়নি। বছরে দু’কোটি চাকরি হয়নি। তাই তাঁর সভা ঘিরে জেলার কারও কোনও উৎসাহ নেই।