রাহুল চক্রবর্তী, তাহেরপুর: নদীয়ার তাহেরপুরে যে মাঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সশরীরে উপস্থিত হয়ে সভা করার কথা ছিল, সেই মাঠেই রেকর্ড জনসমাগম করে বিজেপিকে বার্তা দিলেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের যাবতীয় হুঙ্কার উড়িয়ে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতেও হাজির হলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। পুজো দিলেন এবং মতুয়াদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন। মোদি-শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বললেন, ‘নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিতে না পারলে গদি ছাড়ুন’
এসআইআর আবহে শুক্রবার অভিষেকের কর্মসূচির দিকে কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক মহল। একদিকে নদীয়ার মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা রানাঘাট। অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঠাকুরনগর। দুই জেলার এই দু’টি জায়গা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। গত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে এখানে ভালো ফল করে গেরুয়া শিবির। এবার তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায়ের অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছে। ‘আবার জিতবে বাংলা’ আওয়াজ তুলেই দু’জায়গায় পা রাখেন অভিষেক। ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে আগেই হুঙ্কার দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তাই এদিন অভিষেকের সফরে কী ঘটে, সেদিকে নজর ছিল সবার। সকাল থেকেই ঠাকুরবাড়ি যেন যুদ্ধক্ষেত্রে চেহারা নেয়। ঠাকুরবাড়িতে অবশ্য শুধু পুজো দিতে যাওয়ার কর্মসূচি ছিল অভিষেকের। তারপরও সেখানে শান্তনু ঠাকুরের উদ্যোগে রীতিমতো সিআরপিএফ মোতায়েন করা হয়। যা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এ তো ভিতুর ডিম, ভিতুর দল। কাপুরুষ। প্যারা মিলিটারি ফোর্সকে দিয়ে জায়গাটাকে দখল করে রেখে দিয়েছে। তুমি আইন শৃঙ্খলায় মাথা গলাচ্ছ, তোমার কী অধিকার আছে?’ যদিও মতুয়া ভক্তরাই অভিষেককে স্বাগত জানান এবং তাঁকে ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে নিয়ে যান। শান্তিপূর্ণভাবে পুজো দেন অভিষেক। সেখানে রাজনীতির কোনও কথাও বলেননি।
নদীয়া জেলার তাহেরপুরের জনসভা থেকে নাম করেই তিনি নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং শান্তনু ঠাকুরকে আক্রমণ করেন। গত ১৮ ডিসেম্বর তাহেরপুর সভা করার কথা ছিল মোদির। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকার কারণে সেখানে পৌঁছতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। ভার্চুয়াল সভা করেন। সেই মাঠেই এদিন পালটা সভা ছিল অভিষেকের। লক্ষাধিক মানুষের রেকর্ড সমাগম হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। ধামসা, মাদল, কাঁসর, ঘণ্টা, ডঙ্কা, নিশান নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন। লক্ষ্মীর ঘট হাতে নিয়ে মহিলাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তার সঙ্গে ছিল সমাজের বিভিন্ন অংশের সব বয়সের মানুষের উপস্থিতি। মাঠ ছাপিয়ে গোটা এলাকাই মানুষের ভিড়ে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। মানুষের বিপুল সমর্থন দেখে হাঁটু মুড়ে বসে তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানান অভিষেক। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং ভুল বুঝিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট আদায় করেছিল বিজেপি। এখন এসআইআরের নামে মতুয়াদের হেনস্তার মুখে ফেলা হচ্ছে। নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দাও। না হলে মোদি, অমিত শাহ গদি ছাড়ুন।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ভোটে শান্তনু ঠাকুর জয়ী হয়েছিলেন। সেই ভোটারই যদি এখন অবৈধ হন, তাহলে শান্তনু ঠাকুরও অবৈধ।’ নিজস্ব চিত্র