Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মোদি ৩.০, বেকারত্বে জ্বলছে দেশ, একমাসে বৃদ্ধি ৪৬ শতাংশ! সিএমআইইর রিপোর্টে উদ্বেগ

বছরে ২ কোটি চাকরি দূর অস্ত! ২০২৪ সালের আগে ১০ লক্ষ নিয়োগের মোদি-প্রতিশ্রুতিও হাজার রোজগার মেলা সত্ত্বেও বিশ বাঁও জলে

মোদি ৩.০, বেকারত্বে জ্বলছে দেশ, একমাসে বৃদ্ধি ৪৬ শতাংশ! সিএমআইইর রিপোর্টে উদ্বেগ
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০১
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বছরে ২ কোটি চাকরি দূর অস্ত! ২০২৪ সালের আগে ১০ লক্ষ নিয়োগের মোদি-প্রতিশ্রুতিও হাজার রোজগার মেলা সত্ত্বেও বিশ বাঁও জলে। মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ যোজনাও। সদ্য শেষ হওয়া বছরে, স্বাধীনতা দিবসের ঘোষণা ছিল আরও বড়ো—আগামী দু’বছরে সাড়ে তিন কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি জন্য এক লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প! এই ঘোষণাকে সামনে রেখে বিহার বিধানসভা প্রচারে নেমে পড়ে পদ্ম শিবির। পশ্চিমবঙ্গও বাদ ছিল না। কিন্তু, বাস্তব চিত্র একেবারে আলাদা। বিশেষজ্ঞ সংস্থা সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমির (সিএমআইই) রিপোর্ট বলছে, ডিসেম্বর মাসে দেশে গড় বেকারত্বের হার ৬.৯ শতাংশ। নভেম্বর মাসে যা ছিল ৪.৭ শতাংশ। বৃদ্ধির শতকরা বিচারে দেখা যাচ্ছে, বছর শেষে মাত্র একমাসে কর্মহীনতার হার বেড়েছে ৪৬ শতাংশের বেশি। ইঙ্গিত পরিষ্কার, বেকারত্বের জ্বালায় জ্বলছে গোটা দেশ!

Advertisement


কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? আর্থিক বিশেষজ্ঞরা সাফ জানাচ্ছেন, স্থায়ী কর্মসংস্থানের বদলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই মোদির তৃতীয় ইনিংসেও দেশে চাকরির জন্য এই হাহাকার অব্যাহত। এমনিতেই বছর শেষে গ্রামীণ এলাকায় চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কাজ পাওয়ার সুযোগ অনেক কমে যায়। এই সময় কর্মদাতারা ঋণ শোধের দিকে বেশি জোর দেয়। ফলে দৈনিক মজুরি দিয়ে কাজ করানোর প্রবণতা কমে যায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক মহালয়া চ্যাটার্জিও জানিয়েছেন, ‘এটা না হওয়াটাই আশ্চর্যের বিষয় হত। কর্মসংস্থান নিয়ে বড়ো বড়ো কথা বলা হলেও, স্থায়ী চাকরি কোথায়? স্থায়ী কর্মসংস্থান হলে কোনওমতেই বছর শেষে দেশের বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেত না।’ কেন্দ্রের পিরিওডিক লেবার ফোর্স সার্ভের (পিএলএফএস) তথ্য তুলে ধরেও তিনি আরও বলেন, ‘এতে দেখানো হয় যে মহিলাদের কাজের সুযোগে ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু, তার অধিকাংশ অস্থায়ী। ফলে সেই কাজ কতটা সুরক্ষিত বা আদৌ তাঁরা প্রতি মাসে কাজ পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে কিন্তু সংশয় থেকেই যাচ্ছে।’ 
রাজ্যের শ্রমমন্ত্রীও কেন্দ্রের বেসরকারিকরণ নীতিকেই বেকারত্বের হার বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী একদিকে মুখে বছরে দু’কোটি চাকরির কথা বলছেন, আর যে সমস্ত সংস্থায় স্থায়ী কর্মসংস্থান সম্ভব সেগুলি এক এক করে বন্ধ করে দিচ্ছেন। এই বিজেপি সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’ 
নভেম্বরে দেশে শহর এবং গ্রামীণ এলাকার বেকারত্বের হারে তেমন কোনও ফারাক ছিল না। তবে সিএমইআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জুন এবং অক্টোবরে তা ছিল যথেষ্ট বেশি। যদিও পিএলএফএস সার্ভে রিপোর্ট প্রকাশ করে ওই দু’মাসের বেকারত্বের হার যথাক্রমে ৫.৬ ও ৫.২ শতাংশ ছিল বলে দাবি করেছিল নয়াদিল্লি। জানানো হয়, জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বেকারত্বের হার এক মাসে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৫.৬ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। এখানেই বিশেষজ্ঞ মহলের প্রশ্ন, অন্যান্য পেশাদার আন্তর্জাতিক সংস্থার তুলনায় কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানে বেকারত্বের হার কম থাকার কারণ কী?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ