Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মানব পাচারচক্রের চাঁইরা লুকিয়ে একাধিক পেশায়

মানব পাচারচক্রের চাঁইরা লুকিয়ে একাধিক পেশায়
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কেউ টোটোচালক, কেউ রাজমিস্ত্রি—সাধারণ পেশার ভিড়েই আত্মগোপন করছে আন্তঃরাষ্ট্র মানবপাচার চক্রের চাঁইরা। ফলে অভিযান চললেও তাদের পাকড়াও করতে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে পুলিসকে। মাঝেমধ্যে মিলছে সাফল্যও। মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি বিশেষ পুলিসি অভিযানে ধরা পড়েছে মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত দুই দালাল।
Advertisement
বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ভারতের একাধিক রাজ্যগুলিতে পাকাপোক্ত ফেন্সিং ছাড়া সীমান্ত রয়েছে। তার সুযোগ নিয়েই আন্তঃরাষ্ট্র মানব পাচারের যুক্ত দালাল অথবা চাঁইয়রা অনুপ্রবেশকারীদের এদেশে নিয়ে আসার পথ খুলে দিচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতি চলছে। সে দেশের সংখ্যালঘুরা লাঞ্ছিত, নির্যাতিত। তাঁদের একটা অংশ ভিটে-বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এপারে চলে আসার নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁদের এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে দালালরা। রীতিমতো নারী-পুরুষ ভিত্তিক রেটচার্ট তৈরি করে চলছে কারবার। সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে একটি শ্রেণির মানুষের কাছে এই পাচার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা রোজগার চলছে। সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতেই রয়েছে দালালদের স্থায়ী ঠিকানা। কিন্তু জনসমক্ষেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তারা। 
কিভাবে? সম্প্রতি একাধিক অভিযানে পর পর পাচার চক্রের চাঁই ও দালালদের গ্রেপ্তারির পর বেশকিছু তথ্য পেয়েছেন পুলিশের তদন্তকারী কর্তারা। দেখা যাচ্ছে, আর পাঁচটা সাধারণ পেশার সঙ্গে যুক্ত এই মাথারা। অর্থাৎ বাহ্যিক পেশায় অতি সাধারণ প্রোফাইল রেখেই পিছনে চলছে মানব পাচার। এদের মধ্যে কেউ এলাকায় পরিচিত সাধারণ টোটোচালক। কেউ আবার টাইলসের ব্যবসা করে।  কেউ আবার রাজমিস্ত্রি পরিচয়ে বসবাস করেন। কারও আবার রয়েছে মুদিখানার দোকান। ফলে সাধারণ মানুষের ভিড়ে এদের গুলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা প্রবল। অভিযানে নামলেও তাই এই আন্তর্জাতিক মানব পাচারচক্রের দালালদের চিহ্নিত করতেও খানিক বেগ পেতে হচ্ছে তদন্তকারীদের। 
মঙ্গলবার রাতেও ধানতলা থানা একটি অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে দুজন দালালকে। তাদের মধ্যে একজন এনামুল মণ্ডল এবং অন্যজন দীপঙ্কর বিশ্বাস। ধৃতদের মধ্যে প্রথমজন শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং দ্বিতীয় জন ধানতলা থানার বরনবেড়িয়া গ্রামের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। ধৃত দীপঙ্কর দিনমজুর হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। এলাকার লোকজন তার আয় সীমিত বলেই জানতেন। আবার এনামুল এলাকার বেশ পরিচিত টাইলসের মিস্ত্রি। ফলে সাধারণ পেশায় আত্মগোপন করে থাকা তাদের পক্ষে অনেক সহজ ছিল। শীতের রাতে কুয়াশাকে ঢাল বানিয়ে দিনের পর দিন ধরে চলতো তাদের অবৈধ ব্যবসা। ফেন্সিং ছাড়া এলাকা দিয়ে বাঁশের বেড়া ভেঙে অথবা শুকনো ইছামতি নদীর জঙ্গল ঘেরা পাড় ব্যবহার করে দিনের পর দিন মোটা টাকার বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারীদের এদেশে নিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে দু’জনের বিরুদ্ধে। বুধবার দুজনকেই তোলা হয়েছিল রানাঘাট মহকুমা আদালতে। 
রানাঘাট পুলিস জেলার এক কর্তা বলেন, আমরা তদন্তে জানতে পেরেছি, ধৃতরা বাহ্যিক পেশায় নিজেদের অত্যন্ত সাধারণ শ্রমিক অথবা দরিদ্র মানুষ হিসেবে পরিচয় দিত। কেউ আবার এলাকায় টোটো চালক হিসেবে বেশ পরিচিত। কিন্তু সেটা নামমাত্র। পিছনে চলত তাদের এই কারবার। আমরা তদন্ত করছি। একাধিক আন্তঃরাষ্ট্র মানব পাচার চক্রের দালাল ধরা পড়েছে। পুলিস সীমান্ত এলাকাগুলিতে সক্রিয় রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ