সংবাদদাতা, চাঁচল: এলাকায় কাজের খোঁজ নেই। বাড়িতে অভাব দেখে আর বসে থাকতে পারেননি। কথা ছিল বাবার সঙ্গে কাজ করে মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জন করে বাড়ি ফেরা। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। মঙ্গলবার মালদহের চাঁচল-২ ব্লকের ক্ষেমপুর পঞ্চায়েতের বিজলি গ্রামে ফিরল যুবক পরিযায়ী শ্রমিকের কফিনবন্দি দেহ। ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত ওই শ্রমিকের দেহ ফিরতেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার ও এলাকায়। চলতি বছরে চাঁচল মহকুমার বিভিন্ন ব্লকে ২৫ জনেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মহকুমায় বারবার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে বিজেপি সরকারকে তোপ দেগেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম ইমরুল হক (১৮)। দুই ভাইয়ের মধ্যে ইমরুল বড় ছিলেন। বাবা জিয়াউর হকও পরিযায়ী শ্রমিক। মুম্বাইয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। সেখানেই বাবার কাছে কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন ইমরুল। মুম্বই থেকে ৩০০ কিমি দূরে ট্রেন থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ট্রেনের কামরায় খোঁজ না পেয়ে সহযাত্রীরা তাঁর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কিছুক্ষণ পর তাঁর ফোন থেকে সহকর্মীদের দুর্ঘটনার খবর দেয় রেল পুলিস। ধারদেনা করে পরিবার মঙ্গলবার গ্রামে মৃতদেহ নিয়ে আসে। বাবা জিয়াউর হক বলেন, অভাবের জেরে ছেলেকে পড়াতে পারিনি। ও সবসময় সংসারের উন্নতির কথা ভাবত। এভাবে মৃত্যু হবে ভাবতে পারছি না। চাঁচল-২ বিডিও শান্তনু চক্রবর্তী বলেন, পরিবারটি যাতে সরকারি ভাবে সবরকম সুবিধা পায়, তা প্রশাসনের তরফে দেখা হবে।
Advertisement
এদিন বাড়িতে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে যান স্থানীয় মালতীপুরের তৃণমূলের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি। তিনি আর্থিকভাবে পরিবারটিকে সাহায্য করে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন,রাজনৈতিক কারণে এখানে ১০০ দিনের প্রকল্প স্থগিত করেছে বিজেপি। এই প্রকল্প চালু থাকলে কম বয়সিদের পরিযায়ী শ্রমিক হতে হতো না। মালদহ উত্তরের বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি অয়ন রায় বলেন, তৃণমূলের নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের টাকা তছরূপ করেছেন। রাজ্য হিসেব না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ দিচ্ছে না।



