Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মালদহের জের, নিরাপত্তারক্ষী পেলেন তিন তৃণমূল নেতা

মালদহের জের, নিরাপত্তারক্ষী পেলেন তিন তৃণমূল নেতা
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মালদহের তৃণমূল কাউন্সিলার বাবলা সরকার খুনের পরই পুলিসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, বাবলার নিরাপত্তারক্ষী ছিল। তা পুলিস তুলে নিয়েছিল। সেই ঘটনার পরই বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখে পুলিস। তারপরেই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের এলাকার শাসক দলের তিন নেতার জন্য সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী দিল পুলিস।
Advertisement
প্রসঙ্গত, বাবলা সরকারের মতো নিরাপত্তা পেতেন আসানসোল পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার অশোক রুদ্র। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে এই শিক্ষক নেতার নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। ফের তাঁর নিরাপত্তায় একজন সশস্ত্র কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে। একই নিরাপত্তারক্ষী পেলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি বিষ্ণুদেব নুনিয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ সদস্য রামকৃষ্ণ ঘোষ। আউসগ্রাম-২ ব্লকের এই নেতার বাড়ি বুদবুদ থানা এলাকায়। 
প্রথমে কালকাতার কাউন্সিলারকে লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা। তারপরই মালদহের কাউন্সিলারকে খুনের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ে শিল্পাঞ্চলের শাসক দলের নেতাদের মধ্যেও। বিশেষ করে যেভাবে বাবলা সরকার খুনে শাসক দলের শহর সভাপতিই গ্রেপ্তার হয়েছেন এতে দলীয় কোন্দল স্পষ্ট হয়েছে। এই অবস্থায় শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িয়ে থাকা নেতাদের নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তারই মাঝে তিনজন নেতাকে পুলিসি নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেট। 
বিভিন্ন সময়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন খনি অঞ্চলের অবাঙালি নেতা বিষ্ণুদেব নুনিয়া। এখন তিনি পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি। তৃণমূল নেতা হয়েও তিনি আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠন না করে এইচএমএস সংগঠনের বড় নেতা। এনিয়ে খনি অঞ্চলের শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে তীব্র আক্রোশ আছে। গত বছর পাণ্ডবেশ্বরের ঝাঁঝরায় তাঁর গাড়িতে আক্রমণ করার অভিযোগ ওঠে আইএনটিটিইউসির বিরুদ্ধে। তিনি থানায় অভিযোগ দায়েরও করেন। এই অবস্থায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বর বিষয়টি মাথায় রেখেই কি সহকারী সভাধিপতির নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হল? সেই প্রশ্ন উঠছে। বিষ্ণুদেববাবু বলেন, নিরাপত্তাহীনতা ছিল। মুখ্যমন্ত্রীকে অসংখ্যা ধন্যবাদ। তাঁর তৎপরতার জন্যই নিরাপত্তারক্ষী পেয়েছি।
অন্যদিকে, আসানসোল পুরসভা ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অশোক রুদ্র তৃণমূল রাজ্য কমিটির সদস্যও। তিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতিও ছিলেন। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে বালিবোঝাই ডাম্পারের চাকায় দুই তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর পর আন্দোলন করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তারপরই নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেয় পুলিস। তিনিও নিরাপত্তারক্ষী ফিরে পেয়েছেন। যাতে খুশি অশোকবাবু। অন্যদিকে আউশগ্রাম-২ ব্লকেও রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে একাধিকবার। সেখানকার শাসক দলের নেতাও পেলেন নিরাপত্তারক্ষী।
সম্পর্কিত সংবাদ