সংবাদদাতা, মানকর: দামোদরের পাড়ে থাকা রণডিহা লকগেট দেখতে বছরভর ভিড় জমান বহু মানুষ। এবার রণডিহা ব্যারাজকে কেন্দ্র করে ইকো ট্যুরিজম সেক্টর তৈরির দাবি জানালেন গলসির বিধায়ক নেপাল ঘোড়ুই। তিনি বলেন, এখানে বহু মানুষ আসেন। বিধানসভায় জানিয়েছি, ওখানে সেচ দপ্তরের জমিও রয়েছে। তাই পর্যটন কেন্দ্র করতে জমির কোনও সমস্যা ওখানে নেই। ইকো-ট্যুরিজম সেক্টর হলে অনেকের কর্মসংস্থান হবে।
রণডিহা ব্যারাজের একদিকে বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লক অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমানের গলসি-১ ব্লক। দু’পাড়ের মানুষ রণডিহা ফেরিঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র হলে এলাকার পরিস্থিতি বদলে যাবে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রণডিহার কাছেই ভরতপুর বৌদ্ধস্তূপ। এই এলাকাকে কেন্দ্র করে গলসি-১ পঞ্চায়েত সমিতি ইকো ট্যুরিজম সেক্টর গড়ার আবেদন রাজ্যের কাছে পাঠিয়েছিল। সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ভরতপুর এলাকার জমি ও বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালে জুলাই মাসে আলাপনবাবু এলাকা পরিদর্শনের পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে হয়েছিল দ্রুত ইকো ট্যুরিজম সেক্টর গড়ে উঠবে এখানে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়েছে। কোনও কাজ হয়নি। এবার বিধায়ক উদ্যোগ নেওয়ায় আশাবাদী বাসিন্দারা। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এখানে ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র হলে পর্যটকরা একসঙ্গে একাধিক স্থান দর্শন করতে পারবেন। রণডিহা ব্যারাজ বা ভরতপুরের বৌদ্ধস্তূপের পাশাপাশি এলাকায় রয়েছে কসবার চম্পকনগর। কথিত আছে, দেবী মনসা চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যতরী ডুবিয়ে দেন। চাঁদবণিক তখন এই অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করেন। তিনি শিবভক্ত হওয়ায় এখানে শিবলিঙ্গ স্থাপন করেন। স্থানীয়দের কাছে যা রামেশ্বর শিব নামেই পরিচিত। শিবমন্দিরের কাছেই বট গাছ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মন্দির সংলগ্ন বিস্তৃত এলাকা ছিল চাঁদবণিকের বসতবাড়ি। এখানেই নাকি লখিন্দর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শিবমন্দির থেকে কিছু দূরে অবস্থিত একটি উঁচু ঢিপি। এলাকাবাসীর কাছে যা সাঁতালি পর্বত নামে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানান, দু’টি রাস্তা দিয়ে এই রণডিহা যাওয়া যায়। একটি পানাগড়-সিলামপুর হয়ে। অন্যটি বুদবুদের নস্করবাঁধ হয়ে। আগে দুই রাস্তাই ছিল বেহাল। প্রশাসন দু’টি রাস্তা নতুনভাবে করে দিয়েছে। ফলে রণডিহায় পর্যটকদের যাতায়াতে সমস্যা হবে না। কিন্তু পর্যটকদের বিনোদনের জন্য রণডিহায় উপযুক্ত কোনও পদক্ষেপ করেনি প্রশাসন।
দুর্গাপুরের বাসিন্দা অপর্ণা সরকার বলেন, প্রায়ই রণডিহায় আসি। উন্নত মানের বসার জায়গা, খাবারের দোকান ইত্যাদির অভাব রয়েছে। তবে ইকো ট্যুরিজম সেক্টর হলে এলাকার ভোল বদলে যাবে। স্থানীয় বহু মানুষ কাজ পাবেন। এলাকার অর্থনীতির উন্নতি হবে।-নিজস্ব চিত্র