সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভিনরাজ্যে পাচারের আগে ডাউন মুজফ্ফরপুর বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে দশজন নাবালককে উদ্ধার করল রেল পুলিস। দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে নাবালক পাচারের অভিযোগে মামলা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাঁইথিয়া জিআরপির ওসি অপু দাস। মঙ্গলবার তাদের রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার রাতে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে রামপুরহাট আরপিএফকে খবর দিয়ে জানানো হয়, ওই এক্সপ্রেস ট্রেনে দশজন নাবালককে ভিনরাজ্যে কাজ দেওয়ার নাম করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেইমতো আরপিএফ রামপুরহাট স্টেশনে ওই ট্রেনে উঠে তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে পাকুড় স্টেশনের কাছে দশজন নাবালককে উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে থাকা দু’জন মহম্মদ আবদুল্লা ও সঞ্জয় চৌধুরী নামে দুই যুবককে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া নাবালকদের বয়স ১৩-১৬ বছরের মধ্যে। চার নাবালকের বাড়ি মালদহের কালিয়াচকে। বাকি ছ’জন নাবালক বিহারের চম্পারণের বাসিন্দা। অন্যদিকে ধৃত বছর চব্বিশের মহম্মদ আবদুল্লার বাড়ি কালিয়াচাকে, সঞ্জয়ের বাড়ি বিহারে। সকলকে রামপুরহাট স্টেশনের আরপিএফ পোস্টে নিয়ে এসে জেরা করা হয়। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে তাদের জিআরপির হাতে তুলে দেয় আরপিএফ। জিআরপি দু’জনকে গ্রেপ্তার করে নাবালক পাচারের ধারা যুক্ত করে রামপুরহাট আদালতে পাঠায়। নাবালকদের সিউড়িতে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাদের বহরমপুরের একটি হোমে পাঠানো হয়েছে।
Advertisement
জিআরপি জানিয়েছে, সঞ্জয় বিহারের বিজয়নগরম থেকে ছ’জন নাবালককে নিয়ে যাচ্ছিল। আবদুল্লা মালদহ থেকে চার নাবালককে নিয়ে যাচ্ছিল বেঙ্গালুরুতে। নাবালকদের মোটা টাকা উপার্জনের টোপ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তারা। যদিও জিজ্ঞাসাবাদে নাবালকরা বলেছে, তাদের বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই ভালো কাজ দেবে বলে নিয়ে যাচ্ছিল। স্থায়ী হলে মোটা টাকা বেতন পাব বলেছিল। কিন্তু কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল সেটা তারা বলতে পারেনি। তাদের পরিবারে খবর দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, হোম থেকে নাবালকদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে নাবালক অবস্থায় যেন তাদের ছেলেমেয়েদের কাজে পাঠানো না হয় সেই বিষয়টি নিয়েও এবার সবাইকে সতর্ক করা হবে।



