নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সোমবার সন্ধ্যায় বর্ধমানে দলীয় কর্মসূচিতে এসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরিুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। পাশাপাশি নিজেদের সমস্যার দিকটিও তিনি তুলে ধরেন। এদিন বোরহাটে রবীন্দ্রভবনে তিনি কর্মিসভায় অংশগ্রহণ করেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ঠিকমতো কাজ করলে ভোট ঠিকঠাক হবে। কিন্তু কোথাও কোথাও তারা বেসমাল হয়ে যায়। এটা একটা সমস্যা।
এদিন দলের কমসূচিতে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে বিজেপির তারকা নেতা বর্ধমানে আসেন। কর্মীরা তাঁর সামনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকেই উঠে চলে যান। দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হলেও কর্মীদের খাবার দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। তাঁরা চিৎকার শুরু করে দেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মিঠুন তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক শেষ করে কর্মীদের সামাল দেন। কর্মসূচিতে দেরিতে আসার জন্য নিজের ভুলের কথা তিনি স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, আর কিছুক্ষণ আপনারা ধৈর্য ধরে বসুন। দূর থেকে আসছি। সেই কারণে একটু দেরি হয়েছে।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী হয়েছিল। এবার সেই আসনটি তাদের হাতছাড়া হয়। এদিন সেই প্রসঙ্গে ওই বিজেপি নেতা বলেন, নিজেদের মধ্যে সমস্যা থাকলে জিতবে কীভাবে? সেইসব সমস্যা মেটানোর জন্যই তো বৈঠক করতে এসেছি। এদিনের কর্মসূচিতে দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা, দলের নেতা সন্দীপ নন্দী সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন কর্মিসভা চলাকালীন দলের কয়েকজন কর্মীও নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ উগরে দেন। দলের এক নেতা বলেন, কর্মীদের আর দোষ কোথায়? তাঁরা দুপুর থেকে চলে এসেছেন। অনেকে খেয়েও আসেননি। নেতা সন্ধ্যার সময় এলেন। আগে দলে শৃঙ্খলা ছিল। যে কোনও কর্মসূচি নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হতো। এখন নির্দিষ্ট সময়ের দু’-তিন ঘণ্টা পর কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। নেতৃত্ব গোষ্ঠীকোন্দল মেটানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাতেও লাভ হচ্ছে না। কয়েকদিন আগে জেলা সভাপতি বদল চেয়ে বর্ধমান শহরের কোর্ট চত্বরে পোস্টার পড়েছিল। দলের অনেক নেতা অভিমানে বাড়িতে বসে রয়েছেন। শাসকদল বুথ ধরে কর্মসূচি শুরু করেছে। কিন্তু বিজেপি এখনও পার্টি অফিসের বাইরে সেভাবে কর্মসূচি নিতে পারেনি। এদিন তারকা নেতা মিঠুন বলেন, সমস্যা তো কিছু আছে। তা সমাধান করার জন্যই তো আসছি। • নিজস্ব চিত্র