নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ময়দানে নেমেছে তৃণমূলের সহযোগী সংস্থা। নেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে তারা। নেতাদের ভাবমূর্তি জানতে দলের কর্মী, সমর্থকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলছে তারা। এছাড়া তাদের নির্দিষ্ট ‘সোর্স’ কাজে লাগাচ্ছে। মার্কশিট তৈরি হওয়ার পর তা রাজ্য দপ্তরে জমা পড়বে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বও তা খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে, এবার আর কোনও ‘ম্যানেজ’ করে কিছু লাভ না বলে নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে। জল মেশানো রিপোর্ট নয়, খাঁটি তথ্যর ভিত্তিতেই মার্কশিট তৈরি হবে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। যেসব তথ্য গ্রাউন্ড জিরো থেকে পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলি তারা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলবে।
তৃণমূল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দলের অনেক নেতাই টিকিট পেতে নিজেদের মতো করে লবির দ্বারস্থ হচ্ছে। কেউ কেউ আবার নিজের মহিমা প্রচার করতে সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করছে। তাঁরা কতটা জনহিতে কাজ করে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করছে। আবার কেউ কেউ বোঝানোর চেষ্টা করছেন, তিনি ছাড়া বিধানসভা নির্বাচনে জয় পাওয়া সম্ভব নয়। সেসব ধারণা ভুল প্রমাণ করতেই ময়দানে নেমেছে শাসক দলের সহযোগী সংস্থা। তারা প্রতিটি নেতার সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করছে। নেতাদের জনসংযোগ ক্ষমতা কেমন, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা কেমন রয়েছে, সেসব তথ্য তারা নথিভুক্ত করছে। এছাড়া কয়েক বছরে তাঁদের সম্পতি কতটা বেড়েছে বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের আর্থিক অবস্থা কতটা পরিবর্তন হয়েছে, সেসব তথ্য তারা নথিভুক্ত করছে। দুর্নীতিগ্রস্ত বা অত্যাচারী নেতাদের ব্যাকবেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
নেতাদের পাশাপাশি বিধায়কদের সম্পর্কেও তারা তথ্য নিচ্ছে। এই কয়েক বছরে বিধায়করা এলাকায় কতটা পরিষেবা দিয়েছেন বা তাঁর ফান্ড থেকে কী কী কাজ করেছেন সেসব তথ্যও তাঁরা জোগাড় করছেন। এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁর কেমন সম্পর্ক রয়েছে তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের এক নেতা বলেন, সব কিছু যাচাই করার পর টিকিট দেওয়া হলে ভালোই হবে। তাতে দলের ভাবমূর্তিও ভালো হবে। লোকসভা নির্বাচনে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীদের টিকিট দিয়ে দল বাজিমাত করেছে। বিধানসভা নির্বাচনেও একই পন্থা নিলে দলের পক্ষে ভালো হবে। তবে, কয়েকজন জনপ্রতিনিধির দাম্ভিকতা বেড়ে গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁরা সুসম্পর্কও রেখে চলেন না। তাঁদের শিক্ষা দেওয়া দরকার।
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা ভালোই হবে। দলের আর এক নেতা বলেন, সহযোগী সংস্থার কর্মীরা সবস্তরের নেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তাঁরা একান্তে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছেন। নেতাদের সম্পর্কে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলিও তাঁদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। অভিযোগ কতটা সত্য তা নিয়ে ব্যাখাও চাওয়া হচ্ছে।