সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: চালুর পরেও হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে লেভেল ক্রসিংয়ের রেলগেট। এতে সমস্যায় পড়েছেন কাকদ্বীপের গণেশপুরের প্রথম ঘেরির বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, আগে ওই এলাকায় একটি রেলগেট ছিল। এমনকী ট্রেন আসার সময় হলে গেট ফেলার জন্য রেলদপ্তরের এক কর্মীও নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু প্রায় তিন বছর আগে হঠাৎ করেই রেলগেটটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে কর্মীদের বিশ্রামের ঘরটি তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রেলগেটটি তুলে নেওয়ার পর প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এমনকী কয়েকজনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা সুকুমার মাইতি বলেন, রেলগেটের ওই রাস্তা দিয়ে প্রায় পাঁচটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। মোটরসাইকেল, ভ্যান ও মেশিন ভ্যান যাতায়াত করে। প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এই রেলগেট থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে কাশীনগর স্টেশন। ওই স্টেশনে যাওয়ার জন্যও প্রচুর মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। রেলগেটটি যখন ছিল, তখন কোনও সমস্যা ছিল না।
মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার বলেন, রেলদপ্তর বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বড় বড় বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সুরক্ষার বিষয়টি এখন তলানিতে ঠেকেছে। ওই এলাকার রেলগেটটি কোনওভাবেই তুলে নেওয়া উচিত হয়নি। কারণ ওটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। রেলমন্ত্রককে বিষয়টি জানাব। দ্রুত যাতে ওই জায়গায় ফের রেলগেট তৈরি করা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনাও করব।
পূর্ব রেলের জনসংযোগ বিভাগের তরফে দীপ্তিময় দত্ত বলেন, এলাকার বাসিন্দারা সুনির্দিষ্ট কোনও দাবি পাঠালে তার ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে। তখন বিকল্পও কিছু ভাবা হবে। রেলদপ্তর লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ভূগর্ভস্থ পথ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সহজেই যানবাহন চলাচল করতে পারে এবং দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমানো যায়।