সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ফরাক্কা ও ধুলিয়ান স্টেশনের মাঝে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ায় এক শিশু জখম হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে চলন্ত তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেসে পাথর ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। সেই পাথর ট্রেনের জেনারেল কামরায় এক দেড়বছরের শিশুর কপালে এসে লাগে। একটুর জন্য শিশুটির চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায়। এই ঘটনায় ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিশুটির কপাল ফেটে রক্ত ঝরে। তার বাবা গামছা দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরেন। ট্রেনে থাকায় দীর্ঘক্ষণ শিশুটির চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। এধরনের ঘটনা রুখতে রেল কর্তৃপক্ষকে তৎপর হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন যাত্রীরা। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের গ্রেফতার করে কড়া শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এধরনের ঘটনা রুখতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে।
ফরাক্কার আরপিএফের ইন্সপেক্টর প্রেম সিং মিনা বলেন, আমি ছুটিতে রয়েছি। এরকম ঘটনার কথা জানা নেই। তবে কী ঘটেছে, সেবিষয়ে খোঁজ নেব। রেলের জঙ্গিপুরের এক আধিকারিক বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিষয়টি জেনেছি। কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি। এধরনের ঘটনা রুখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রচার করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে রেলও এলাকায় প্রচার চালাবে।
ওইদিন সন্ধ্যায় কাটিহার স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন বিহারের এক শ্রমিক দম্পতি। সঙ্গে ছিল তাঁদের বছর দেড়েকের শিশু। ওই দম্পতি বহরমপুর এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করেন। সেখানেই কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ট্রেনটি ফরাক্কার সাঁকোপাড়া হল্ট স্টেশন ছেড়ে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে ঢোকার আগে বাইরে অন্ধকার থেকে পাথর ছোড়ে সমাজবিরোধীরা। শিশুটির চোখ রক্ষা পেলেও কপাল ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। মালদহের বাসিন্দা তথা ওই ট্রেনের যাত্রী সুফিয়ান মিয়াঁ বলেন, আমিও ট্রেনের কামরায় ছিলাম। আচমকা একটি পাথর এসে শিশুটির কপালে লাগে। তার কপাল থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়া অপরাধ। পুলিশ দোষীদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিক।