সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মল্লারপুরের রাতমা গ্রামে প্রৌঢ়কে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতের নাম তামাল বাগদি (৫৫)। রবিবার সন্ধ্যা থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সোমবার দুপুরে মাটি খুঁড়ে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের উত্তরপাড়ায় বাড়ি তামালবাবুর। ওইদিন দুপুরে বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করে গ্রামের একটি মাঠে কাজে যান।
সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এদিন সকাল থেকেও খোঁজাখুঁজি করা হয়। দুপুরের দিকে গ্রামের পুকুরপাড়ে আলগা মাটি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। কাছে গিয়ে তাঁরা পায়ের আঙুল দেখতে পাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। এলাকার লোকজন সেখানে ভিড় জমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন পুলিসকর্তারা। মাটি খুঁড়ে তামালবাবুর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিস।
মৃতের স্ত্রী সুশরী বাগদি দাবি করেন, স্বামীকে খুন করে দেহ লোপাট করতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। পুলিস ময়নাতদন্তের জন্য দেহ রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠায়। পুলিস জানিয়েছে, ওই প্রৌঢ়কে খুন করে দেহ পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, অশান্তি বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে প্রতিশোধ নিতেই এই ঘটনা। দেহ কাদামাখা থাকায় আঘাতের কোনও চিহ্ন রয়েছে কি না তা বোঝা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই কীভাবে খুন করা হয়েছে তা স্পষ্ট হবে। তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, মৃতের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। মাস ছয়েক আগে স্ত্রী ও সন্তানকে রেখে এক বধূর সঙ্গে পালিয়ে যান তাঁর ছেলে। গ্রামবাসীরা জানান, তার পর থেকেই মৃতের পরিবারের অশান্তি চলছিল। মৃতের স্ত্রী বলেন, স্বামী দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর মাঠে যাচ্ছি বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। অনেক খুঁজেও সন্ধান পাইনি। এদিনই থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করা হতো। তারমধ্যেই স্বামীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। পারিবারিক বিষয়ে একটা অশান্তি চলছিল। যারা স্বামীকে এভাবে নৃশংসভাবে খুন করে পুঁতে দিয়েছে তাদের কঠোর শাস্তি চাই।
পুলিস জানিয়েছে, এই ঘটনায় গ্রামেরই একটি পরিবারের বাবা ও ছেলে এবং মৃতের প্রতিবেশী এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র