নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এ যেন সিনেমার চিত্রনাট্য! সরকারি হোমের হাউস মাদারকে মেরে অজ্ঞান করে পুরো ফিল্মি কায়দায় পালানোর চেষ্টা করল কয়েকজন নাবালিকা। গত রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে বহরমপুরের শিলায়ন হোমে। যা নিয়ে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বহরমপুর শহরজুড়ে। এক অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকার শারীরিক সমস্যার কথা বলে হাউস মাদারকে ডেকে পাঠায় কয়েকজন মেয়ে। মাদার ঘরে ঢুকতেই তাঁকে ওড়না ও কাপড় দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে তারা। মাদার অচৈতন্য হয়ে পড়লে পালানোর চেষ্টা করে মেয়েরা। তবে হোম কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় তাদের অভিসন্ধি সফল হয়নি। হাউস মাদারকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হোম কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি বহরমপুর থানায় খবর দেয়। পুলিস গিয়ে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে। শিলায়ন হোমের সুপার বহরমপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিস মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিস জানিয়েছে, গত রবিবার রাতে স্টাফ রুমের বাইরে অচৈতন্য হাউস মাদারকে উদ্ধার করে তারা। তাঁর জ্ঞান ফিরে এলে তিনি গোটা ঘটনা পুলিসকে জানিয়েছেন।
শিলায়ন হোমে প্রায় শতাধিক মেয়ে থাকে। ইদানিং জেলা প্রশাসন বাল্যবিবাহ আটকানোর জন্য স্পেশাল ড্রাইভ দিয়েছে। যে কারণে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাবালিকা বধূদের উদ্ধার করে ওই হোমে রাখা হচ্ছে। সেরকমই কয়েকজন এবং অন্যান্য ঘটনায় যুক্ত নাবালিকারা ওই রাতে হাউস মাদারকে বেঁধে মারধর করেছে। আবাসিকদের ঘরে যখন হাউস মাদার ঢোকেন তখন ১৫-১৬ জন মিলে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘরে সিসি ক্যামেরা না থাকার সুযোগেই মেয়েরা ওই ঘটনা ঘটাতে সাহস পেয়েছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। তাদের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার হোমে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। হোমের আবাসিকদের সঙ্গে কথাও বলেন তাঁরা। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন সোমা ভৌমিক।
তিনি বলেন, হোমের সুপার বহরমপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। ওই মহিলার আঘাত বেশ গুরুতর। তাঁকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমরা সবসময়ে মেয়েদের পক্ষে। তাদের কী অসুবিধা হয়েছে, কেন এমন করল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের অনেক সময়ে মুড সুইং করে। তারা বাড়িতেও কখনও কখনও মা-বাবার গায়ে হাত তোলে। এখানে তো নানা দিকের বিভিন্ন মেয়েরা পরিস্থিতির শিকার হয়ে হোমে থাকে। ওদের মানসিক পরিস্থিতি কী, তা বোঝার চেষ্টা হচ্ছে। স্পেশ্যাল কেয়ার নিতে হবে। তারা যাতে বুঝতে পারে, এটা আইন বিরোধী কাজ। আমরাও শিশুদের মনোভাবের পরিবর্তন করার জন্য যা যা করণীয় সেই ব্যাপারে হাউস মাদার ও হোমের সব স্টাফদের প্রশিক্ষণ দেব। স্টাফদের নাবালিকাদের সঙ্গে আচরণের ব্যাপারে স্পেশ্যাল ক্যাপাসিটি বিল্ডিং করার চেষ্টা করছি। ক্রিটিক্যাল দলকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সেজন্য যা যা প্রশিক্ষণ দেওয়ার, তা দেওয়া হবে। এই হোমেই ঘটনাটি ঘটে। নিজস্ব চিত্র