Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সংখ্যালঘু ও মতুয়ারাই এখন নির্বাচন কমিশনের চোখে বেশি সন্দেহজনক!

সংখ্যালঘু এবং মতুয়ারাই নির্বাচন কমিশনের কাছে বেশি সন্দেহজনক হয়ে উঠেছেন। তাঁরা বেশি সংখ্যায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস পেয়েছেন।

সংখ্যালঘু ও মতুয়ারাই এখন নির্বাচন কমিশনের চোখে বেশি সন্দেহজনক!
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সংখ্যালঘু এবং মতুয়ারাই নির্বাচন কমিশনের কাছে বেশি সন্দেহজনক হয়ে উঠেছেন। তাঁরা বেশি সংখ্যায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস পেয়েছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেতুগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের ৪৭হাজার ১১৫জন ভোটার সন্দেহজনক হয়েছেন। জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ভোটার শুনানির জন্য ডাক পেয়েছে এই কেন্দ্র থেকে। এছাড়া মন্তেশ্বর, মঙ্গলকোট, খণ্ডঘোষ এলাকার বহু সংখ্যালঘু শুনানির জন্য ডাক পেয়েছেন। মতুয়া অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দারাও নির্বাচন কমিশনের টার্গেটের বাইরে যায়নি। পূর্বস্থলী উত্তর, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোট বেশি রয়েছে। ওই এলাকার বহু বাসিন্দা নো-ম্যাপিং হয়েছিলেন। এবার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির মধ্যে পড়েছেন অনেকে। পূর্বস্থলী উত্তরে ৩৫হাজার ৩৬৮জন সন্দেহজনক ভোটার হিসেবে ডাক পেয়েছেন। এই বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোটারের সংখ্যা বেশি। পূর্বস্থলী দক্ষিণেও বহু মতুয়া রয়েছেন। এই বিধানসভা কেন্দ্রে ৩২হাজার ৯৯জন ভোটারকে শুনানিকেন্দ্রে ডাকা হয়েছে। এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার ছিলেন ১০হাজার ৯৬১ এবং ৭৬৮৯জন। খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটার রয়েছে ৩০হাজার ৯২৫জন। এই বিধানসভা কেন্দ্রে ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার ছিলেন ২৯০৬জন। খণ্ডঘোষে সংখ্যালঘু ভোটাররা বেশি ডাক পেয়েছেন। মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন করে ৩৫হাজার ৫২২ভোটার ডাক পেয়েছেন। কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় ৩৪হাজার ৮২৫, মঙ্গলকোটে ৩৯হাজার ৮১১জন নোটিস পেয়েছেন। এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে মুসলিম ভোটাররা বেশি ডাক পেয়েছেন। গলসি বিধানসভা কেন্দ্রে ৩২হাজার ৪৭জন ডাক পেয়েছেন। ডাক পাওয়া ভোটারদের মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যা বেশি। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে সন্দেহজনক ভোটার রয়েছেন ২১হাজার ৪৬৬জন।

Advertisement

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ৪ লক্ষ ৯৯হাজার ৬৩৫জন ভোটার ডাক পেয়েছেন। গত মঙ্গলবার থেকে সন্দেহজনক ভোটারদের শুনানি হয়েছে। নো -ম্যাপিং ভোটারদের শুনানি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, নো-ম্যাপিং ভোটারদের নিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু সন্দেহজনক ভোটার চিহ্নিত করতে গিয়েই জট বেঁধেছে। যাঁদের নামের বানান ভুল রয়েছে, তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে সন্দেহজনক। এছাড়া একজনকে ম্যাপিং করে ছ’জন ভোটার তালিকায় নাম তুললে, তাঁদের সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে খুশি করতে গিয়ে নতুন নতুন ফরমান জারি করছে। মতুয়া এবং সংখ্যালঘুরা সব থেকে বেশি টার্গেট হচ্ছে। তৃণমূল নেতা খোকন দাস বলেন, নির্বাচন কমিশন যত এসব করবে, ততই বিজেপির ভোট কমবে। মানুষকে ওরা নাজেহাল করে দিয়েছে। এর জবাব আমজনতা ইভিএমে বিজেপিকে দেবে। গেরুয়া শিবিরের ইচ্ছেতেই কমিশন ফর্ম ৬ এবং ফর্ম ৭ জমা করার সময়সীমা বাড়িয়েছে।  বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, শুনানি কেন্দ্রে এসে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নথি দেখাচ্ছে। তাদের সমস্যা নেই। যত সমস্যা তৃণমূলের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ