Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিদি প্রেমের প্রস্তাব খারিজ করায় নাবালিকা বোনের উপর নির্যাতন

সেই রাগে কোলাঘাট থানার একটি গ্রামে বাড়িতে ঢুকে বোন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর মলদ্বারে চামচ ভেঙে ঢুকিয়ে দিল দুষ্কৃতী

দিদি প্রেমের প্রস্তাব খারিজ করায় নাবালিকা বোনের উপর নির্যাতন
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ২১:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: প্রেমের প্রস্তাব খারিজ করেছিল দিদি। সেই রাগে কোলাঘাট থানার একটি গ্রামে বাড়িতে ঢুকে বোন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর মলদ্বারে চামচ ভেঙে ঢুকিয়ে দিল দুষ্কৃতী। বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতে বাবা-মা ও নাবালিকা দিদি কেউ ছিল না। সেই সময় মুখে রুমাল চাপা দিয়ে স্থানীয় এক যুবক ওই ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সকালে ওই ছাত্রীর মলদ্বারে প্রবল ব্যথা হয়। বাড়ির লোকজনকে সবটা জানায়। তড়িঘড়ি কোলাঘাট ব্লকের পাইকপাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। শুক্রবার অপারেশন করে ওই ছাত্রীর মলদ্বার থেকে ভাঙা চামচ বের করা হয়। শনিবার বিকেলে কোলাঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিস ওই ঘটনার তদন্তে নেমেছে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীরা দুই বোন। দিদি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। ওই ছাত্রী পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা-মা একটি কারখানায় কাজ করেন। বুধবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীর বাবা-মা কারখানায় ছিলেন। দিদি মামাবাড়িতে ছিল। বাড়ির দোতলায় ১১বছরের ওই ছাত্রী একা ছিল। নীচে ঠাকুমা, কাকিমারা ছিলেন। সবার অলক্ষ্যে বাড়ির বাইরে দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠে অভিযুক্ত যুবক। সন্ধ্যা নাগাদ ওই যুবক চুপিসারে সিঁড়ি দিয়ে বাড়ির দোতলায় গিয়ে ছুরি দেখিয়ে ওই নাবালিকার মুখ চেপে অশ্লীল আচরণ করে বলে অভিযোগ। মলদ্বারে ভাঙা চামচ ঢুকিয়ে দেয়। কাউকে ঘটনার কথা বললে খুন করার হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ। বুধবার রাতে বাবা-মা বাড়ি ফিরলেও ওই নাবালিকা কিছু জানায়নি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ছাত্রীটি ব্যথায় কাবু হয়ে পড়ে। মাকে সবটা খুলে জানায়। চামচের ভাঙা একটা অংশ বাইরে পড়েছিল। বাকি অংশ একজন তার মলদ্বারে ঢুকিয়েছে বলে জানায়। এরপরই ওই ছাত্রীকে পাইকপাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিগৃহীতা ছাত্রীর দিদি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। অভিযোগ, স্থানীয় এক যুবক তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই নাবালিকা সেই প্রস্তাব খারিজ করে। এনিয়ে ঝামেলা চলায় ওই নাবালিকাকে তার মামার বাড়িতে রেখে আসেন বাড়ির লোকজন। সম্ভবত তারই প্রতিশোধ নিতে নাবালিকার বোনের সঙ্গে এরকম ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ। 
ওই ছাত্রীর কাকিমা বলেন, অন্যদিনের মতোই বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ বাইরে খেলাধুলো করে ভাশুরের ছোট মেয়ে বাড়ি ফিরে আসে। সেই সময় ওর বাবা-মা এবং দিদি কেউ বাড়িতে ছিল না। সন্ধ্যা নাগাদ সবার অলক্ষ্যে বাইরের সিঁড়ি বেয়ে উপড়ে গিয়ে অভিযুক্ত যুবক এমনটা করেছে। সম্ভবত স্প্রে করে সংজ্ঞাহীন করেছে। তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পর স্ক্যান করা হয়। তাতে মলদ্বারের মধ্যে ধাতব বস্তু আটকে থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপরই অপারেশন করে সেটি বের করা হয়েছে। আমরা ওই যুবকের কঠোর শাস্তি চাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ