Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ষার আগে কান্দির নদী বাঁধগুলির ছোটখাট মেরামতি শীঘ্রই শুরু হবে

বর্ষার আগে কান্দির নদী বাঁধগুলির ছোটখাট মেরামতি শীঘ্রই শুরু হবে
  • ২৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: এবছর নদী বাঁধগুলির কোথাও বড় ধরনের ভাঙন নেই। তবে বিভিন্ন জায়গায় ছোটখাটো ফাটল থেকে রেইনকাট রয়েছে। উল্লেখ্য বৃষ্টির জল চুঁইয়ে বহুক্ষেত্রে নদীবাঁধের ক্ষতি করে। তার থেকেও ধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই কান্দি মহকুমা এলাকার নদীগুলিতে এবছর বর্ষা শুরুর আগেই সেগুলি মেরামতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এর টেন্ডারও প্রকাশিত হয়েছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, কান্দি মহকুমা এলাকার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ময়ূরাক্ষী, কানা ময়ূরাক্ষী, কুয়ে, বাবলা, ব্রাহ্মণী ও দ্বারকা নদী। প্রতি বছর বর্ষায় ওই সকল নদী বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায় বাসিন্দাদের কাছে। যদিও কান্দির বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প কান্দি মাস্টার প্লানের দৌলতে গত তিন বছর ধরে এলাকায় বড় ধরনের বন্যা দেখা যায়নি।
তবে বিভিন্ন নদীতে প্রতি বছর ফাটল ও রেইনকাট দেখা যায়। গত বছর বর্ষায় তেমনই ২০টিরও বেশি জায়গায় ফাটল ও রেইনকাট দেখা গিয়েছে বলে সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। সেচদপ্তর জানিয়েছে, ওই সকল ফাটল ও রেইনকাট বর্ষার সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই প্রতি বছরের মতো এবছরও সেগুলি মেরামতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কান্দি মহকুমা সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ময়ূরাক্ষী, কুয়ে ও ব্রাহ্মণী নদীতে অনেকগুলি রেইনকাট ও ফাটল রয়েছে। সেগুলির মেরামতির জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হলেই মেরামতি শুরু হবে। আশা করি, ঘোর বর্ষা শুরুর আগেই মেরামতি শুরু হয়ে যাবে।
স্থানীয় পাঁচথুপি গ্রামের বাসিন্দা সুদর্শন চক্রবর্তী, আদিত্য হালদার, নিয়ামত আলম প্রমুখ জানিয়েছেন, বড়ঞা ব্লক এলাকায় ময়ূরাক্ষী নদীর বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় রেইনকাট রয়েছে। পাঁচথুপি গ্রামের কাছে অন্তত তিনটি রেইনকাট রয়েছে। এছাড়াও ময়ূরাক্ষীর ভরতপুর থানার বিন্দারপুরের, কোল্লা ও চাঁদপুরের কাছেও বাঁধে ফাটল রয়েছে।
এদিকে ভরতপুর থানার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল মণ্ডল, জলধর মণ্ডল প্রমুখ জানিয়েছেন, কুয়ে নদীর ভরতপুর ১ ব্লকের আঙারপুর ও সুন্দিপুর গ্রামের কাছেও রেইনকাট রয়েছে। আবার খড়গ্রাম ব্লকের ব্রাহ্মণী নদীর নামু যাদবপুর ও জাফরপুরের কাছে বাঁধে ফাটল রয়েছে বলে সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গতবছর বর্ষায় কান্দি মহকুমার বড়ঞা ও ভরতপুর ১ ব্লকের একাংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে কুয়ে নদীর জলে। এমনকী বড়ঞা ব্লকের সোনাভারুই গ্রামের এক সাত বছরের নাবালিকার মৃত্যু হয় জলে ডুবে। কুয়ে নদীর বীরভূমের লাভপুর থানা এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে এই বিপত্তি দেখা দিয়েছিল বলে সেচদপ্তরের দাবি। তাই এবছর আগে থেকেই সেচদপ্তর সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছে। বন্যার আগাম সর্তকতা হিসেবে বিভিন্ন পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ