Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফাঁসেই মৃত্যু নাবালিকার, খুন না আত্মহত্যা! তদন্ত করছে পুলিস

গলা টিপে নয়, বরং নাবালিকার মৃত্যু হয়েছিল ফাঁস লেগে

ফাঁসেই মৃত্যু নাবালিকার, খুন না আত্মহত্যা! তদন্ত করছে পুলিস
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: গলা টিপে নয়, বরং নাবালিকার মৃত্যু হয়েছিল ফাঁস লেগে। তবে সেই ফাঁস নাবালিকা নিজে তৈরি করেছিল না কি মূল অভিযুক্ত রোহিত রায় নাবালিকার গলায় ফাঁস লাগিয়েছিল তা তদন্ত করে দেখছে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থানার পুলিস। যদিও ধর্ষণের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট হয়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। সেজন্য পুলিস ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। শিলিগুড়ির ফুলবাড়ির শান্তিপাড়া এলাকার ওই নাবালিকার মৃত্যুর তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে ফাঁসির কারণে ওই নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। নাবালিকার গলায় যে দাগ ছিল তা দেখেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার মূল অভিযুক্তকে জ্যোতির্ময় কলোনিতে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। সেসময় স্থানীয়রা বাড়ির সামনে ভিড় জমান। বাসিন্দাদের দাবি, রোহিতের মা পরিচারিকার কাজ করেন। তার বোন দাদুর বাড়ি সূর্যসেন কলোনিতে থাকে। ঘটনার আগে মা ও বোনের নিয়মিত এই বাড়িতে যাতায়াত থাকলেও রোহিত গ্রেপ্তারের পর তাদের পাত্তা নেই। বহুবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন ধরেনি। এদিন অভিযুক্তকে তার গাড়ির সামনে নিয়ে যাওয়া হলে কীভাবে কোলে তুলে দেহ গাড়িতে রেখেছিল সে সমস্তটা দেখায় রোহিত। এরপর বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভিতরে তদন্ত চালায় পুলিস।  
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে গলায় ফাঁস লাগার কারণেই নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। তবে তা আত্মহত্যা না খুন, সেই বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে ওই নাবালিকাকে মৃত অবস্থায় তার শান্তিপাড়ার বাড়িতে নিয়ে যায় রোহিত রায় এবং তার এক নাবালক সহযোগী। এরপর তাদের নিয়ে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা নাবালিকাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা। তারা দুই অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করেন। পরবর্তীতে দু’জনকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। রোহিতকে আদালতে তুলে সাত দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। অন্যদিকে অভিযুক্ত নাবালককে হোমে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জেরায় পুলিস জানতে পেরেছে, নাবালিকার পরিবারকে ফোন করে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য রোহিত নাবালক সহযোগীকে বলেছিল। সেইমতো নাবালিকা উত্তরকন্যার পাশের একটি ঝোঁপে পড়ে রয়েছে এমন ভুল তথ্য দিয়ে পরিবারের লোককে ফোন করেছিল অভিযুক্ত নাবালক। তবে পুলিসের জেরার মুখে পড়লেও নাবালিকাকে সে খুন করেনি বলে বারবার দাবি করছে রোহিত। তবে সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে স্বীকার করেছে। যদিও পুলিস অভিযুক্তের কোনও যুক্তি মানতে চাইছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ