অভিষেক পাল, বহরমপুর: বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে নাবালিকাদের টাকা দিয়ে কিনে আনা হচ্ছে মুর্শিদাবাদে। জেলা প্রশাসন নাবালিকা বিয়ে বন্ধের বিশেষ অভিযানে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। বিহার ও ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত এলাকার নাবালিকার পরিবারের হাতে হাজার পঞ্চাশ টাকা গুঁজে দিলেই বিয়ে করার ছাড়পত্র মিলছে বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি বহরমপুরের সাঁটুই-চৌরিগাছা অঞ্চলে পঞ্চায়েতের সদস্য, আশাকর্মী, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে নাবালিকা বিয়ে রুখতে সচেতনতা বৈঠক হয়। এলাকায় সার্ভে করার সময় দেখা যায়, অনেক পরিবারেই কম বয়সি মেয়ে রয়েছে। যারা বাংলা বোঝে না। হিন্দিতেই যাবতীয় কথা বলছে। মেরেকেটে যাদের বয়স ১৩-১৪ বছর। বিহার কিংবা ঝাড়খণ্ড থেকে তাদের এক প্রকার ফুসলিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। তারাই এখন ওই বাড়ির বধূ। ওইসব পরিবারকে সচেতন করতে হাজির হচ্ছে প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা। কোথাও কোথাও আশাকর্মীরাও তাদের বাল্যবিবাহ নিয়ে সচেতন করছেন। নাবালিকা বিবাহ করা অন্যায়, সেটা জানাতে গিয়েই গন্ডগোল বাঁধছে। ওই পরিবারের সদস্যদের দাবি, ওই মেয়েদের আনতে ৩০-৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। পরিবারের হাতে নগদ টাকা তুলে দিলে তবেই নাবালিকাদের বিয়ে করার সম্মতি মেলে।
কয়েক দিন আগে দৌলতাবাদ থানার পুলিস নাকাতল্লাশির সময় একটি চারচাকা গাড়ি আটকায়। তীব্র আওয়াজে গান বাজিয়ে ওই গাড়ি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। পুলিস সেই কারণে গাড়ি আটকালেও পরে দেখা যায়, ভিতরে নতুন বধূ। পুলিস আধিকারিকরা তাকে প্রশ্ন করলে, সে কিছুই বলছিল না। গাড়িতে থাকা বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার বাড়ি বিহারের পূর্ণিয়ায়। তাকে ভুল বুঝিয়ে বিয়ে করে আনা হয়। পুলিস সকলকে থানায় নিয়ে যায়। বধূর বয়স দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিস তার ডকুমেন্টস দেখে। জানা যায়, তার বয়স ১৫ বছর। সঙ্গে সঙ্গে বর ও তার পরিবারের মোট পাঁচজনকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। নাবালিকাকে পুলিস উদ্ধার করে জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে পেশ করে।
সিডব্লুসি’র সদস্য বিপ্লব মণ্ডল বলেন, আমরা গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ওই নাবালিকাকে হোমে রাখার সিদ্ধান্ত নিই। বিহারের পূর্ণিয়ার ডিসিপিওকে ওই নাবালিকার সমস্ত তথ্য তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ওই নাবালিকার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আমাদের একটি রিপোর্ট পাঠাবেন। তারপরে আমরা নাবালিকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।
কিন্তু, এই অল্পবয়সি নাবালিকাদের ভবিষ্যৎ কি? এক্ষেত্রে, ওই নাবালিকার সঙ্গে তিনটি পদক্ষেপ করা হতে পারে। প্রথমত, কথা বলে তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। দ্বিতীয়ত, তার সুরক্ষিত কাস্টডির জন্য এখানকার হোমেও রাখা হতে পারে। তৃতীয়ত, নাবালিকাকে বিহারের পূর্ণিয়ায় ডিসিপিওর হাতে তুলে দেওয়া যেতে পারে। তারা নাবালিকাকে সেখানকার হোমে রাখার ব্যবস্থা করবে।
সিডব্লুসি’র চেয়ারপার্সন সোমা ভৌমিক বলেন, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে অনেক নাবালিকাকে এই জেলার যুবকরা বিয়ে করে আনছে। পরিবারের হাতে টাকা দেওয়ার পর সেখান থেকে মেয়েদের নিয়ে আসা হচ্ছে বলে আমরা জানতে পারছি। তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে।