নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার সময়ে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটল শিলিগুড়িতে। চা বাগানের নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে বছর পনেরোর ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আর এ নিয়ে থানায় অভিযোগ জমা পড়তেই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে প্রধাননগর থানা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম বিবেক মুণ্ডা ও রাজুচিক বড়াইক। তাদের বাড়ি গুলমায়। ঘটনাটি প্রধাননগর থানারই গুলমার রাঁচিগাঁও খেললাইন এলাকার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে নির্যাতিতা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। রাতে খাবার খাওয়ার পরে সে একাই বাড়ি ফেরার জন্য অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে বের হয়। সেই সময় অভিযুক্ত দুই যুবক কিশোরীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। দুই যুবককে আগে থেকেই পরিচিত নাবালিকার। তাদের সঙ্গে কিশোরী হেঁটেই বাড়ির দিকে রওনা হয়। মূল রাস্তা ধরে না গিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য চা বাগানের ভিতরের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব কিশোরীকে দেয় দুই যুবক। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় কোনওরকম সন্দেহ না করেই বাগানের দিকে যেতে রাজি হয় নাবালিকা।
বাগানের ভিতরে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছতেই বিবেক ও রাজু নানাভাবে কিশোরীকে উত্যক্ত করতে থাকে। নাবালিকার শরীরের একাধিক জায়গা স্পর্শ করতে শুরু করে। মেয়েটি বাধা দিলে ছেলে দু’টি অশ্লীল ভাষায় কথা বলতে থাকে। পরবর্তীতে একপ্রকার জোর করে মাটিতে ফেলে দফায় দফায় নাবালিকাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এরপর দুই অভিযুক্ত নাবালিকাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখে। বাড়ির কাউকে কিছু জানালে তাকে ও তাঁর পরিবারের সকলকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ।
নাবালিকা বাড়ি এসে প্রাথমিকভাবে কাউকে কিছু জানায়নি। কিন্তু তার আচরণ দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এরপরেই তাকে নানাভাবে জেরা করায় আসল সত্য পরিবারের সামনে তুলে ধরে মেয়েটি। কিশোরীর মুখ থেকে গোটা বিষয়টি জানতে পেরেই শনিবার প্রধাননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নাবালিকার পরিবার। অভিযোগ পেয়ে ওই দুই যুবককে রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রবিবার ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তুলে তিন দিনের হেপাজতে নেয় পুলিশ। ঘটনার সবদিক খতিয়ে তদন্ত শুরু করেছে প্রধাননগর থানা। নাবালিকার স্বাস্থ্যপরীক্ষাও করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, আমাদের কাছে নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে একটি অভিযোগ দায়ের হয়। নির্দিষ্ট নামে অভিযোগ জমা পড়তেই প্রাথমিক তদন্তের পর দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেপাজতে নিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি আমরা। কিশোরীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়েছে।