জয়পুর: বয়স ১২ বছর। নাবালিকাকে চারদিন আটকে রেখে লাগাতার গণধর্ষণ। অভিযোগ, আলাদা আলাদা হোটেলে নিয়ে গিয়ে ওই ছোট্ট মেয়েটিকে দিয়ে দেহ ব্যবসাও করানো হয়। চলে অকথ্য শারীরিক নির্যাতন। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর জেলার এই ঘটনায় মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ন্যায়বিচার চেয়ে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ। বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে নারীসুরক্ষার বেহাল দশার অভিযোগে সরব বিরোধী দলগুলিও। এই ঘটনায় বুধবার রিপোর্ট তলব করল জাতীয় মহিলা কমিশন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে কমিশনের নির্দেশ- এযাবৎ গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত রিপোর্ট ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। জেলার পুলিশ সুপার হরিশংকর যাদব জানিয়েছেন, তদন্ত শেষপর্যায়ে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচিত এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে শ্রীগঙ্গানগর থেকে বিজয়নগরে পাড়ি দিয়েছিল ওই নাবালিকা। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে ধর্ষণ করে ওই বন্ধু। এরপর বিজয়নগর থেকে শ্রীগঙ্গানগরের বাসে ওঠে নির্যাতিতা। রাতে শ্রীগঙ্গানগর বাসস্ট্যান্ডে নেমে একটি রিকশ নিয়েছিল সে। রিকশচালক তাকে একটি হোটেলে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে আরও দু’টি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। চারদিন ধরে চলতে থাকে নির্যাতন। নাবালিকার বয়ান অনুযায়ী, ১৮ জুন রাত থেকে ২২ জুন পর্যন্ত ২০-২৫ জন তাকে ধর্ষণ করেছে।
এদিকে মেয়ে বাড়ি না ফেরায় খোঁজ শুরু করেন মা। শেষপর্যন্ত ২২ জুন থানার দ্বারস্থ হন অসহায় মা। পুলিশের বক্তব্য, ‘নির্যাতিতার মা থানায় আসার আগেই আমরা ঘটনার কথা জানতে পারি। অভিযান চালিয়ে নাবালিকাকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’