সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দিল ১৫ বছরের নাবালিকা। এই ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়েছে বালুরঘাটে। ধন্দে নাবালিকার পরিবার। তবে, চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির দাবি, যৌন নির্যাতনেই ওই নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল। নাবালিকার প্রসবের পরই প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে ডিএসপি (সদর) বিক্রম প্রসাদ বলেন, ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে বালুরঘাট থানার পুলিস।
জেলাজুড়ে নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন মন্দিরা রায়। বলেছেন, নবম শ্রেণির এক নাবালিকা পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছে। পরিবারকে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বলেছি। মেয়েটি যৌন নির্যাতনের ফলেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল। এই ধরনের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। আগেও এক নাবালিকা শিশুর জন্ম দিয়েছে। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।
পুলিস সূত্রে খবর, বালুরঘাট শহরেই বাড়ি ওই নাবালিকার। তার বাবা নেই। মা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তার মা আবার ইসলামপুরে হোটেলে রান্নার কাজ করেন। বাড়িতে দিদার কাছেই মানুষ। সৎ বাবা মাঝে মধ্যেই ওই নাবালিকার দেখাশোনা করতে আসে। দিদার বাড়িতে থেকেই ওই নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শুক্রবার বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর নাবালিকা প্রসব করে। খবর যায় পুলিসের কাছে। এরপরই পুলিস ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি তদন্ত শুরু করে। নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলছে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি ও পুলিস।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, সন্তান ও নাবালিকা দু’জনই অসুস্থ। চিকিত্সা চলছে। অসুস্থ থাকায় এখনই ওই নাবালিকার কাউন্সেলিং করানো সম্ভব হচ্ছে না।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় নাবালিকাদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় নাবালিকার বিয়ের বিরুদ্ধে পুলিস প্রশাসনকে অভিযান চালাতে হয়। ইতিমধ্যে নাবালিকাকে বিয়ে করার দায়ে অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। নাবালিকা বিয়ের পাশাপাশি ১৮ বছরের নীচে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে আসছে। যা নিয়ে চিন্তা আরও বেড়েছে। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর মিলে কাজ করলেও এই সমস্যা কমছে না।