নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার পর ফের বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে গণধর্ষণের শিকার হল নাবালিকা। এবার জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় বছর ১৬-র এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে নির্যাতিতার পরিবার পুরুলিয়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ তদন্তে নেমে শনিবার বেলার দিকে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকা ও ধৃতরা একই এলাকার বাসিন্দা। পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ রবিবার ধৃত ছ’জনকে আদালতে পেশ করে। বিচারক তাদের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ধৃত আর একজন অসুস্থ রয়েছে। সে বর্তমানে দেবেন মাহাত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিন বিষয়টি সামনে আসতেই জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এনিয়ে সরব হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি বলেন, অপহরণ ও গণধর্ষণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। নাবালিকার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর কেউ এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ ওই নাবালিকা তার বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিল। তারপর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু, কোথাও সন্ধান পাননি। শেষমেশ পৌনে ১২টা নাগাদ তাঁরা থানার দ্বারস্থ হন। অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। রাতেই পুলিশ তদন্তে নামে। দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ নাবালিকার হদিশ পায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে রেললাইন সংলগ্ন নির্জন এলাকা থেকে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। নাবালিকাকে উদ্ধারের সময় তার বন্ধুও সঙ্গে ছিল। নাবালিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই গণধর্ষণের বিষয়টি পুলিশ জানতে পারে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এনিয়ে নাবালিকার পরিবার থানায় অভিযোগ জানায়। তবে অভিযোগে ওই বন্ধুর নাম নেই। যদিও ঘটনার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফরেন্সিক টিমের সদস্যরা সেখান থেকে খুব শীঘ্রই নমুনা সংগ্রহ করবেন বলে জানা গিয়েছে।
ওইদিন ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বের হওয়ার পর কয়েকজন যুবক জোর করে নাবালিকা ও তার বন্ধুকে রেললাইন সংলগ্ন নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানেই নাবালিকাকে গণধর্ষণ করা হয়। তবে নাবালিকাকে গণধর্ষণের সময় তার বন্ধুর কী ভূমিকা ছিল, সে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, গত বছর দুর্গাপুরে এক ডাক্তারি পড়ুয়া তাঁর বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন বলে পরিবার অভিযোগ করে। ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। ফের এই ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুরুলিয়া সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সদস্য প্রদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, এটা কোনও সরকার চলছে? এই সরকারের আমলে নাবালিকারাও সুরক্ষিত নয়।
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাত বলেন, এসব ঘটনার ক্ষেত্রে রাজ্য জিরো টলারেন্স নীতিতে চলে। ইতিমধ্যে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। গ্রেপ্তারও করেছে। আমরা চাই এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক দোষী যেন কঠোর শাস্তি পায়।